গুমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে: আবদুল্লাহ আল আমিন
গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ আর গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পুরোনো চর্চায় ফিরে যাবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশার বিপরীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরও বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগের ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের ২৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে গুমের অভিযোগ করেন। স্বজনের সন্ধান ও বিচার চেয়ে অভিযোগ করার পর উল্টো পরিবারের সদস্যদের কারাগারে যেতে হলে ভুক্তভোগীরা রাষ্ট্রের কাছে কীভাবে ন্যায়বিচার চাইবেন—এ প্রশ্ন দেখা দেয়।
গুমের অভিযোগকারী ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের ওপর অযৌক্তিক প্রমাণের দায় চাপানো উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে বলেই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তা বাতিল করা উচিত নয়। কোনো আইন বা উদ্যোগে উন্নতির প্রয়োজন হলে তা সংশোধন ও শক্তিশালী করা যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় আগের পদক্ষেপ বাতিল করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়, যাতে ভুক্তভোগীরা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ সংস্কার ও গুমের মতো মৌলিক বিষয়ে বাংলাদেশকে পেছনের দিকে হাঁটা উচিত নয়। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা, বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মানবাধিকার কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।





































