১৮ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:০৪, ১৮ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৭:১৯, ১৮ আগস্ট ২০২৬

বন্দরে মন্ত্রী-এমপির অনুষ্ঠানে আ.লীগ নেতা মোস্তফার ছেলে

বন্দরে মন্ত্রী-এমপির অনুষ্ঠানে আ.লীগ নেতা মোস্তফার ছেলে

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বিএনপি সরকারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মোস্তফা কামালের ছেলে মাহমুদুল কামাল রবিনকে। বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল আত্মগোপনে থাকলেও তার ছেলেকে প্রকাশ্যে সরকারি অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্মিত রেসকিউ বোট হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, জাপানের রাষ্ট্রদূত এইচ ইমি শিনিচিসহ স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বারোটি উপকূলীয় জেলায় দুর্যোগকালীন জরুরি উদ্ধার কাজের জন্য এসব রেসকিউ স্পিডবোট নির্মাণ করা হয়েছে মেসার্স গোল্ডেন ফাইবার গ্লাস নামে প্রতিষ্ঠানে। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক মোস্তফা কামাল। তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। আওয়ামী লীগের সময়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিরও সভাপতি ছিলেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের সঙ্গে তার বেশ ঘনিষ্ঠতা ছিল। ওই সময় স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন মোস্তফা কামাল। সরকারি কাজও ওই সময় এ প্রভাবের কারণে বেশি পেয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা। কামালের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলাও রয়েছে কয়েকটি। কিন্তু কয়েকমাস পরেই স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সঙ্গে সখ্যতা করে তার ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন অনায়াসে। বিএনপি সরকার তার প্রতিষ্ঠান থেকেই রেসকিউ বোট কেনার মধ্য দিয়ে এ বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়েছে।

ফতুল্লার এক যুবদল নেতা বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনেও শামীম ওসমানের জন্য অর্থের যোগান দিয়েছেন। একপেশে ওই নির্বাচনে জেতার পরে তাকে শুভেচ্ছা জানাতেও মোস্তফা কামাল তার ছেলে মাহমুদুল কামাল রবিনকে নিয়ে গিয়েছিলেন। মোস্তফা কামাল এলাকায় অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে ঘুরতেন, তৈরি করতেন ত্রাস। কমিউনিটি পুলিশিং-এর নেতা হওয়ার কারণে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামও তিনি তখনের গায়েবি মামলায় দিয়ে দিতেন। বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের অভিযান চালানোর কাজ করে গেছেন মোস্তফা কামাল। তার ছেলেকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও এমপিদের সঙ্গে দেখা যাওয়া নিয়ে সমালোচনা চলছে।

অনেকে বলছেন, বিএনপি নেতারা নিয়মিত ফ্যাসিস্টের দোসরদের বর্জনের কথা বললেও কাজে তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার প্রতিষ্ঠানে সরকারি বোট নির্মাণ ও তার ছেলের সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সহজভাবে নিচ্ছেন না তারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়