মন্ত্রিসভায় নারায়ণগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা
সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনায় নারায়ণগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলার বিএনপির চার সংসদ সদস্যের মধ্যে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন এমন গুঞ্জন রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে জেলার জন্য পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্বের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। গত শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানান চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। কিন্তু সে তুলনায় জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত। বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জকে বিশেষ ক্যাটাগরির জেলার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি জেলার জন্য পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্বের দাবি জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ দাবি উত্থাপনের আহ্বান জানান। ব্যবসায়ী সমাজ এ দাবির পক্ষে থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় নারায়ণগঞ্জের বিএনপির চার সংসদ সদস্যের নাম নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব ছিল। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে নারায়ণগঞ্জের আব্দুর মতিন চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারে তাকে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের অধ্যাপক রেজাউল করিম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এ ধারাবাহিকতায় এবারও নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ থেকে কেউ মন্ত্রী হননি বলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জানান। তারও আগে আশির দশকে এরশাদের সরকারের সময় জাতীয় পার্টির শাসনামলে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ এম এ সাত্তারকে করা হয়েছিল পাটমন্ত্রী।
মন্ত্রিসভায় রদবদল হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে কারও জায়গা হয় কি না, সেটিই এখন জেলার রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।





































