চাষাড়ায় স্বজনকে গুলি করেন অয়ন ওসমান, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন এন আর বি মামুন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাষাড়ায় আওয়ামী লীগের ধাওয়ার মুখে বেসরকারি একটি হাসপাতালের গলিতে আশ্রয় নেওয়ার সময় শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের গুলিতে তার পাশে থাকা আন্দোলনকারী স্বজন আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ আগস্ট স্বজনের মৃত্যু হয়।
জবানবন্দিতে এন আর বি মামুন জানান, তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস ব্যবসা করেন। স্বজন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই সকালে সাইনবোর্ড থেকে চিটাগং রোডের দিকে যাওয়ার সময় একটি হাসপাতালের সামনে অবস্থানকালে শামীম ওসমান, শাহ নিজাম, ফাইজুল ইসলাম, কমিশনার রুহুলসহ প্রায় ১৫০ জন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাদের হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ছিল। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর সময় তিনি ডিএনডি খালে পড়ে গিয়ে একটি দাঁত হারান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, মো. মিনহাজ উদ্দিন আহম্মদ, তানভির আহম্মেদসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়, মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে পারভেজ, আদিল, ইয়াসিন, আবুল হোসেন, রাসেল রানা ও শিশু রিয়া গোপকে হত্যার পাশাপাশি অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২১ জুলাই আবদুর রহমান ও রাকিব ব্যাপারীকে হত্যা এবং বহু আন্দোলনকারীকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা এবং সেদিন অসংখ্য আন্দোলনকারীকে আহত করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।





































