২৮ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:৩২, ২৮ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম

দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের একটি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের নিহতদের বাড়িতে চলছে আহাজারি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন একটি বাড়ির সামনে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। নিহত মো. আপন (২০)-এর মা আঁখি বেগম ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বিলাপ করে তিনি বলেন, “আমার পুতেরে আইন্না দেও।”

নিহত আপনের বড় ভাই, সৌদি প্রবাসী মো. জুয়েল জানান, চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান তার ভাই। তিনি বলেন, “গতকালও কথা হইছিল। ওর স্বপ্ন ছিল বাড়িটা পাকা করবে, বাবা-মাকে নিয়ে থাকবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।”

তিনি আরও বলেন, “শুনেছি লাশ পুড়ে গেছে। অন্তত ছাইটুকু দেশে আনতে পারলে কবর দিতে পারতাম।”

একই গ্রামের নূর মোহাম্মদ (৫৫)-এর মৃত্যুতেও শোকাহত পরিবার। তার তিন বোন ও স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পরিবার জানায়, ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান তিনি। তার উপার্জনে দুই মেয়ের বিয়ে হয় এবং ছোট ছেলে সিয়াম এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
নূর মোহাম্মদের ভাগনি ফিমা বলেন, “মামা দেশে ফিরবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু এভাবে ফিরবেন ভাবিনি।”

একই ঘটনায় নিহত হয়েছেন প্রবাসী মো. ফাহিম, যিনি প্রায় ১০ বছর আগে পরিবারের দায়িত্ব নিতে বিদেশে যান। তার উপার্জনে দুই বোনের বিয়ে এবং যমজ দুই ভাইয়ের পড়াশোনা চলছিল। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, দেশে ফিরলে তার বিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই আশা অপূর্ণই থেকে গেল।

ফাহিমের মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার বাবা মনির হোসেন। মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।

এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আলীরটেক ইউনিয়নের তৈলখিরার চর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬), বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের প্রয়াত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহিন (২৬) এবং মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাজিক (৫৫)।

এ ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্বজনদের একটাই আকুতি, অন্তত প্রিয়জনদের শেষ স্মৃতিটুকু যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়