১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২১:১০, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

লড়াই করে হারলেন তারা

লড়াই করে হারলেন তারা

শিল্পসমৃদ্ধ ও ঘনবসতিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের চারটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটিতে জয় পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীরা পরাজিত হলেও বিজয়ী প্রার্থীদের জয় সহজ করে দেননি তারা। ভোটের মাঠে কঠোর লড়াই করেই হেরেছেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীরা। একাধিক আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম। সবচেয়ে কম ব্যবধান ছিল নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং সবচেয়ে বেশি নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে।

পাঁচটি আসনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিটি আসনেই ছিল শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থী, কোথাও জোটের পূর্ণ সমর্থন না পাওয়া ভোটের ব্যবধান কমিয়ে দিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারিত হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। মহানগর বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি হিসেবে তার সাংগঠনিক দক্ষতা, ক্লিন ইমেজ ও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য তাকে বরাবরই শক্ত অবস্থানে রেখেছে। তার বাবা জালাল হাজী ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। চতুর্থবারের মতো জয়ী হয়ে ভোটের রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি।

এই আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন মাত্র ১৩ হাজার ৬০৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ভোটের ব্যবধানেই স্পষ্ট, বিজয়ী প্রার্থীকে কতটা চাপে রেখেছিলেন তিনি। তরুণদের কাছে ‘মোল্লা মামুন স্যার’ হিসেবে পরিচিত সিরাজুল মামুন ইসলামপন্থি ভোটের বাইরে অন্যান্য শ্রেণির ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন এবং বিকল্প রাজনীতির মুখ হিসেবে উঠে আসেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন বড় কোনো রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়াই লড়াই করে প্রায় ৩৫ হাজার ভোট পান, যা ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

জেলার সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪। এখানে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তুলনামূলকভাবে কম ভোটার উপস্থিতির মধ্যেও সবচেয়ে তরুণ প্রার্থী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক আব্দুল্লাহ আল আমিন জয় পান। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক। নতুন মুখ, শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের এই প্রার্থী তরুণদের পাশাপাশি ফতুল্লার সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করেন। জোটের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ শরিক দলগুলোর সমর্থন পান।

এই আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী প্রায় ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন তিনি। ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রেই তার কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। 

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম পরাজিত হলেও ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট পেয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি জানান দেন।

জেলার সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হয় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে। এখানে বিএনপি, জামায়াত ও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায় ফল নির্ধারিত হয়। বিজয়ী প্রার্থী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান ছিল প্রায় ২০ হাজার ভোট।

এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে এলাকায় তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ অংশ যুক্ত হওয়ায় ওই এলাকার ভোটের জন্যও বাড়তি তৎপরতা চালান তিনি।

এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া ২০ হাজার ৪৮২ ভোটে পরাজিত হন। শিক্ষাবিদ ও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া শুরু থেকে পূর্ণ মাত্রায় প্রচারণা চালাতে পারলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে মত বিশ্লেষকদের।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ ৪৩ হাজার ২৩৩ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লা ৮১ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। বড় ব্যবধান হলেও মাঠের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো।

পাঁচটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধান হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে—৬৪ হাজার ৬৬ ভোট। এখানে বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু শুরু থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। শেষ দিকে স্বতন্ত্র ও গণঅধিকার পরিষদ–এর প্রার্থীরা সরে দাঁড়ালে তার পথ আরও সহজ হয়।

তবু ভোটের মাঠে তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেন এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা। একক প্রতিযোগিতায়ও তিনি ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে জানান দেন, বিএনপির জন্য এই আসনও পুরোপুরি নির্ভার ছিল না।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়