১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২০:২৪, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ভোটের হিসাবে শীর্ষে বিএনপি, দ্বিতীয় জামায়াত

নারায়ণগঞ্জে ভোটের হিসাবে শীর্ষে বিএনপি, দ্বিতীয় জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ভোটের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলায় সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ভোটের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে জেলার ভোটার উপস্থিতি ছিল গড়ে প্রায় ৫৭ শতাংশ।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে মোট ভোটার ছিল ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৭১ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪১ জন। মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৫টি।

আসনভিত্তিক মোট ভোটারের হিসাবে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ) আসনে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬ জন, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৪ জন।

দলভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি পেয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৮ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের ৪০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৬৬২ ভোট, যা মোট ভোটের ২২ দশমিক ৮১ শতাংশ।

এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট (৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ)। খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট (৭ দশমিক ৫০ শতাংশ)। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১ হাজার ৯৯৩ ভোট (শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ)।

আরও পাওয়া গেছে— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫১ হাজার ১২৮ ভোট (৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট (৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৭০১ ভোট (৯ দশমিক ১০ শতাংশ)।

ছোট দলগুলোর মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৫ ভোট, গণঅধিকার পরিষদ ১ হাজার ৪২৪ ভোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ৩৭০ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৬৫২ ভোট, এবি পার্টি ১৩৭ ভোট এবং রিপাবলিকান পার্টি ১১ হাজার ৫৫৫ ভোট।

এ ছাড়া সুপ্রিম পার্টি ৬৪৩ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৪ হাজার ৬৫০ ভোট, গণসংহতি আন্দোলন ১ হাজার ৬৬১ ভোট, জনতার দল ২৮৫ ভোট, খেলাফত আন্দোলন ৭৬৯ ভোট এবং মুক্তিজোট পেয়েছে ২৪২ ভোট।

নির্বাচনী সমঝোতার কারণে কিছু আসনে প্রধান দলগুলো সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকায় মোট ভোটের হিসাবে প্রভাব পড়েছে। বিএনপি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীকে ছাড় দেয়। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিসকে আসন ছাড় দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব আসন ছাড়ের কারণে বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলের মোট ভোট আরও বাড়তে পারত।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়