১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৮:৩৮, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ নারায়ণগঞ্জবাসীর

সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ নারায়ণগঞ্জবাসীর

জাতীয় নির্বাচনে শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জেলার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিক অভিযান ও টহল জোরদার করায় সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অপরাধীরা গা ঢাকা দেয়। এর ফলেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্ভব হয়। কোনো বড় ঘটনা ছাড়াই শেষ হয় নির্বাচন। এ কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার জন্য সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে তাদের ভূমিকার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। তাদের দাবি তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি, যৌথ অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার এবং যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে প্রার্থীসহ সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছে। ফলে ভোটের দিন ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদার এবং যৌথ বাহিনীর অংশ হিসেবে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দৃশ্যমানভাবে শক্তিশালী করে। এতে করে নির্বাচনের আগে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

গত ৯ জানুয়ারি ভোরে আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে থানা থেকে লুট হওয়া একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, আটটি ককটেল, ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র, নগদ ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকাসহ পাঁচ শতাধিক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১০ জানুয়ারি দিবাগত রাত ৩টায় আড়াইহাজারের হাইজাদি ইউনিয়নের ধন্দি ভিটি কামালদি এলাকায় অভিযানে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ১০৫ পিস ইয়াবা এবং ১৩টি দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টায় রূপগঞ্জের ভূলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ওয়ান শ্যুটার গান, এক রাউন্ড গুলি এবং একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

ওই দিন রাত ১০টায় শহরের গলাচিপা এলাকার কলেজ রোডে যৌথ অভিযানে মাদক ও অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৪২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, দেড় লাখ টাকা নগদ এবং ছয়টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

বন্দরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের স্ত্রী নার্গিস মাকসুদসহ তাদের কর্মীদের হুমকি দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টির অভিযোগে যুবদল নেতা হুমায়ূন কবিরকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় সেনাবাহিনী।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় পাঁচটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে সেনাবাহিনী। এসব ক্যাম্প থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন তারা। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য ফোর্সের সঙ্গে এক হাজারের বেশি সেনাসদস্য কাজ করেন।

ভোটের আগের রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটার ও অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

ভোটের দিন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও ওই রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও মারধরের সংবাদ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বন্দরের একাধিক এলাকায় পরাজিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনাতেও সেনাবাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

আড়াইহাজারেও কঠোর অবস্থানে ছিল সেনাবাহিনী। আশঙ্কার মধ্যেও তাদের সক্রিয় ভূমিকার কারণে সহিংসতা ছাড়াই সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনের আগের দিন ও রাতে ভোটকেন্দ্র ও কেন্দ্র এলাকার মধ্যে তাদের বিশেষ তৎপরতা প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি নিয়ে আসে। নির্বাচনের দিন যেসব ভোটকেন্দ্রে বিচ্ছিন্নভাবে উত্তেজনাকর পরিবেশ বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, সেসব স্থানে তাৎক্ষণিক পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দ্রুত উপস্থিতি ও কৌশলগত হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে সহিংসতা বা গোলযোগের শঙ্কা ছিল। তবে সেনাবাহিনীর তৎপরতা, দৃশ্যমান টহল ও সক্রিয় উপস্থিতির কারণে সেই শঙ্কা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের ভূমিকা ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হতে উৎসাহিত করে। প্রার্থীদের মধ্যেও ছিল আস্থার পরিবেশ।

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর অবদানের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জেলার বিভিন্ন মহলের মতে, প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে সেনাবাহিনী একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়