‘ত্বকী হত্যার বিচার করুন’, প্রধানমন্ত্রীকে অ্যাড. মাসুম
১৩ বছর ধরে মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।
গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত বিএনপির সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করতে হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।
রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৩ বছর পূর্তিতে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “দু’দিন আগেও শামীম ওসমানকে দায়ি করে ত্বকীর বিচার দাবি করে কাঁচপুরে দেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে। সুতরাং এইটা প্রকাশ্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট সরকার এ সম্পর্কে জানে। সুতরাং তারেক রহমান জানেন না, এ কথা আমরা বিশ্বাস করতে চাই না।
“আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলতে চাই, অতীতে ওয়াদাভঙ্গকারী ওই মুনাফেকদের পদাঙ্ক অনুসরণ না করে আপনি দয়া করে এই নিষ্ঠুরতম, বর্বরতম হত্যাকাণ্ডের বিচারের নির্দেশ দিন”, যোগ করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট মাসুম আরও বলেন, “র্যাবকে বলবো, আপনারা ১৩ বছর আমাদের ঝুলিয়ে রেখেছেন। আপনারা পারবেন না। হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ রয়েছে, হাইকোর্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। আর সাহস দেখানোর চেষ্টা করবেন না। আপনারা যদি করতেই না পারেন, ছেড়ে দিন।”
ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন জানিয়ে এ সাংবাদিক নেতা বলেন, “আমাদের কথা হচ্ছে ত্বকী হত্যার বিচার হতেই হবে। ত্বকী হত্যার বিচার আমরা করেই ছাড়বো। এবং শুধু ত্বকী না, সাগর-রুনিসহ নারায়ণগঞ্জের যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সবগুলোর বিচার আমরা করতে চাই। রমজান মাস, তবুও আমরা থেমে নেই। একটু পরে নামাজ, তবুও আমরা থেমে নেই। পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে আমরা বলবো- ত্বকী হত্যার বিচারের সবগুলো দ্বার উন্মোচন করে দাও এই রমজান মাসে।”
নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এ আয়োজন করে।
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক অ্যাড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী ও শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, উপদেষ্টা জিয়াউর ইসলাম কাজল, উপদেষ্টা প্রদীপ ঘোষ বাবু, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আওলাদ হোসেন, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, সাবে সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা সংগঠক সেলিম মাহমুদ, গণসংহতি আন্দোলন জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা, সুজন জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যরা জড়িত আছেন বলে অভিযোগ ত্বকীর পরিবারের। এ কারণেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে বিচারকাজ বন্ধ ছিল।
তবে, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ওই সরকারের পতনের পর দেড় বছরেও এই হত্যা মামলার কার্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি।





































