০১ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৫৩, ১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২০:৫৩, ১ অক্টোবর ২০২৬

প্রবীণদের জন্য হাসপাতাল-গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধাসহ পরিবারে মর্যাদার দাবি

প্রবীণদের জন্য হাসপাতাল-গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধাসহ পরিবারে মর্যাদার দাবি

প্রবীণদের জন্য সরকারি সেবা, হাসপাতাল ও গণপরিবহনে অগ্রাধিকার এবং পরিবারে মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা। একই সঙ্গে প্রবীণদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যসেবা ও চলাচলবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলারও দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালি বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক তালুকদার বলেন, প্রবীণেরা পরিবার ও সমাজের বোঝা নন। তাঁদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে। বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই যেন প্রবীণদের আশ্রয়স্থল হয়, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি সরকারি হাসপাতাল ও গণপরিবহনে প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।

ড্যাব নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রবীণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বাত, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি জেলা সদরের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রবীণদের জন্য আলাদা কর্নার ও সেবার লাইন চালু করা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, প্রবীনেরা সমাজের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভাণ্ডার। তাঁদের সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন না করে পরিবার, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। বয়সজনিত শারীরিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সেবা ও গণপরিবহনে তাঁদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা প্রবীণদের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবীণদের চলাচলের সুবিধায় প্রবীণবান্ধব ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়িসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাঈমা ইসলাম বলেন, শুধু বাবা-মা নয়, শ্বশুর-শাশুড়িকেও সম্মান করতে হবে। বৃদ্ধ বয়সে কোনো বাবা-মাকে যাতে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে না হয়, সে জন্য পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আজকের নবীনরাই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সমাজের মূলধারায় রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতাল, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং বাস, ট্রেন ও বিমানে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদুল হাসান তাপস বলেন, প্রবীণদের জন্য বয়স্ক ভাতা ও জটিল রোগের চিকিৎসা ভাতাসহ সরকারিভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ছাড়া পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনও রয়েছে। প্রবীণদের সঙ্গে নিয়েই সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে যেতে হবে।

সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম মোক্তার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন আত্ম উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, গ্রীণ অর্থের সভাপতি খালেদ মোশারফ, ৫০ ঊর্ধ্বে কফি হাউজ শেষ বেলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. শাহ্ আলম। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সাবেক লাইব্রেরিয়ান মোশারফ হোসেন, ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদুল হক শাহীনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়