০১ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:৫০, ১ অক্টোবর ২০২৬

মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, ফিরলেন লাশ হয়ে

মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, ফিরলেন লাশ হয়ে

মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী হাবিবুল্লাহ শেখ ওরফে নাসিম। কিন্তু আর জীবিত ফেরা হয়নি তাঁর। পরদিন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এশিয়ান হাইওয়ের পাশ থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। এ সময় হাসপাতালের বাইরে নিহতের পরিবার ও স্বজনেরা আহাজারিতে ভেঙে পড়েন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সামনে নিহতের মা নাজমা বেগম জানান, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সামান্য ভুল-বোঝাবুঝির জেরে তাঁর সঙ্গে অভিমান করে নাসিম বাসা থেকে বেরিয়ে যান। যাওয়ার সময় বাইরে থেকে ঘরে তালা দিয়ে যান। পরদিন সকালে পুলিশের মাধ্যমে ফোন পেয়ে তাঁরা নাসিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন।

নাজমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আমি আমার সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই, যেন আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।’

নিহতের স্বজন ও বোনজামাই ইখলাস খান ইমরান জানান, নাসিম দেওভোগ মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বাবার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তাঁর দাবি, নাসিম অত্যন্ত নম্র স্বভাবের ছিলেন।

ইখলাস খান ইমরান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

আড়াইহাজার থেকে মরদেহ দেখতে আসা প্রতিবেশী আবদুল আজিজ জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে নাসিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসেছেন। তাঁর ভাষ্য, এলাকায় নাসিম ভালো ও শালীন ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ধূমপান বা অন্য কোনো বাজে অভ্যাসের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল না।

এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সোনারগাঁয়ের এশিয়ান হাইওয়ের (ঢাকা বাইপাস) চেঙ্গাইন এলাকায় অলিম্পিক বিস্কুট কারখানার প্রায় ৩০০ মিটার দক্ষিণে সড়কের পাশ থেকে নাসিমের মরদেহ উদ্ধার করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। তাঁর বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

নিহত হাবিবুল্লাহ শেখ ওরফে নাসিম নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দেওভোগ এলাকার মোশারফ হোসেন ও নাজমা বেগমের ছেলে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়