১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সৌরভ হোসেন সিয়াম

প্রকাশিত: ১৬:৩৪, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভোট দিয়ে ৩ অন্ধ ব্যক্তি বললেন, ‘নাগরিক দায়িত্ব পালন করলাম’

ভোট দিয়ে ৩ অন্ধ ব্যক্তি বললেন, ‘নাগরিক দায়িত্ব পালন করলাম’

মধ্যবয়সী মো. জুয়েল, মনির হোসেন ও মো. জসিম। তিনজনই অন্ধ। তাদের মধ্যে জসিম জন্মান্ধ। অন্য দু’জন শিশু বয়সেই অসুস্থতাজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। জেলায় জেলায় ঘুরে হকারি করে বেড়ান তারা।

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এ তিনজন একসাথে এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। ভোটও দিয়েছেন। বলছেন, রাষ্ট্রের নাগরিক দায়িত্ব পালন করতেই তারা ভোট দিতে এসেছেন। কোনো প্রকার ‘ঝুট-ঝামেলা’ ছাড়াই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন তারা। জেনে-বুঝেই গণভোটও দিয়েছেন বলে জানান। তাদের সহযোগিতা করেছেন ভোট গ্রহণে থাকা কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের হাজী শামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে থেকে বের হন এ তিন অন্ধ ব্যক্তি। মনির ও জুয়েল এ কেন্দ্রটিতে ভোট দিয়েছেন। জসিম ভোট দিয়েছেন ফতুল্লার মাহমুদপুরের একটি কেন্দ্রে।

পরিবার নিয়ে তারা ভাড়া থাকেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ও মানিকনগর এলাকায়। কিন্তু ভোটার নারায়ণগঞ্জের। ভোট দিতে আসতে তাদের দুইশ’ টাকা খরচও হয়েছে বলে জানান। তবে এই খরচ নিয়ে তাদের কোনো আক্ষেপ নেই। বরং আগামী সরকারের কাছে কিছু দাবির কথাও জানান সুবিধাবঞ্চিত এ ব্যক্তিরা।

মনির হোসেন বলেন, “অন্য বছরের তুলনায় আজকের ভোটটা অন্য রকম। দেশের নাগরিক হিসেবে একটা ভোট দিতে আমরাও চাই। তাতে আমাদের কাছে অন্য রকম একটা আনন্দ ফিল হয়।”

রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে ভাড়াবাসায় থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, “এইখানে আইসা ভাই-ব্রাদার অনেকের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হলো। ঈদের যেমন একটা আমেজ-আনন্দ, সেইটা উপভোগ করলাম।”

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দেশের নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে ভোট দিতে এসেছেন বলে জানালেন মানিকনগরের বাসিন্দা জুয়েল।

গত পরশু জীবিকার কারণে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ছিলেন জুয়েল। সেখানে রাজশাহীগামী ‘সিল্ক সিটি’ ট্রেনে ভোট দিতে ট্রেনে গ্রামমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখেছেন। ভোট দিতে মানুষের উৎসাহ দেখে নিজেও ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জসিম বলেন, “সিট না পেয়ে অনেকে ট্রেনের ছাদেও উঠে বসেছিলেন। সবাই আনন্দ করে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন, এইটা দেখে আমিও বাসা থেকে ২০০ টাকা খরচ করে ভোট দিতে আসছি। ভোটটা শান্তিমতো দিতে পারছি, এইটাই আনন্দ।”

“আমরা প্রতিবন্ধী মানুষ। আমাদের ছেলেমেয়েরা যাতে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে, তাদের বেতন যেন মাফ করে দেয়। আমরা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে যাতে মুক্তি পেতে পারি, এইটাই চাওয়া”, যোগ করেন তিনি।
মাসে তারা মাত্র ৮৫০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পান জানিয়ে মনির বলেন, “এই ভাতা একমাসের চায়ের পয়সাও না। যেই সরকারই আসুক, এই বিষয়টা যেন বিবেচনা করেন। একটা ব্যক্তির কত টাকা প্রয়োজন মাসে, সেইটা বিবেচনা করে যেন আমাদের ভাতা দেয়।”

দেশের একজন নাগরিক হিসেবে যেন মূল্যায়ন করা হয়, এই প্রত্যাশার কথা জানান এ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

কথা শেষে তাদের দেখা যায়, স্থানীয় এক নারীর সহযোগিতায় ব্যাটারিচালিত এক রিকশাভাড়া করে কেন্দ্রটির সামনে থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়