অপপ্রচারের প্রতিবাদে নাসিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমাবেশ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি শিমুল দাস ও সাধারণ সম্পাদক কিশোর লালসহ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি শিমুল দাস।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ শাহীন। এছাড়া বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কিশোর লাল, সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন দাস ও নারী নেত্রী পারুল রাণীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ইউনিয়নের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইউনিয়ন নেতাদের বিরোধিতা করতে গিয়ে তারা পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এসব অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সিটি করপোরেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ন্যায্য দাবি আদায় ও সংকট নিরসনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত নাসিক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বলা হচ্ছে— টাকা না দিলে নাসিক কর্তৃক নির্মিত আবাসনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা উঠতে পারছেন না। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে পরিবার পরিচালনাই কষ্টসাধ্য, সেখানে লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়।
তারা স্পষ্ট করে বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন বরাদ্দ দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের। এই বিষয়ে ইউনিয়ন নেতাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
বক্তারা আরও জানান, সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কলোনিগুলো এখনো সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়নি। পিলখানা কলোনিতে ১০৮টি ফ্ল্যাটের মধ্যে বর্তমানে ৫৪টিতে এবং পাইকপাড়া কলোনিতে ২৫০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১৫০টিতে কর্মীরা বসবাস করছেন। অবশিষ্ট ফ্ল্যাটগুলো পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবাসন বরাদ্দে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।
সমাবেশে জানানো হয়, ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যদের কাছ থেকে মাসে ১০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। ইউনিয়নের নির্বাচনের মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও গত দেড় বছর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি। জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দ্রুতই ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





































