‘সমীরণ চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় বহু তরুণ শিল্পী গড়ে উঠেছে’
আবেগঘন পরিবেশে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীদের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ প্রয়াত শিল্পী সমীরণ চৌধুরীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শিল্পী সমীরণ চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শিল্পী মো. সামছুল আলম।
এরপর একে একে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শিল্পী ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বরা সমীরণ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করেন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ নিজের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠেন।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডির সভাপতি শিল্পী রেজা আসাদ আল হুদা অনুপমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন গভর্নিং বডির সদস্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক রুমন রেজা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত শিল্পী সমীরণ চৌধুরীর স্ত্রী দীপা চৌধুরী, কন্যা ইশীকা চৌধুরী, উদীচী নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদের সভাপতি জাহিদুল হক দিপু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু, চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও খণ্ডকালীন শিক্ষক বিপ্লব কুমার দাস, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন সাগর, সুমনা আক্তার, কমর উদ্দিন আহমদসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় শিল্পী সমীরণ চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য। একটি টিনের ঘর থেকে আজকের এই সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থানে পৌঁছাতে তাঁর নিরলস শ্রম ও নিষ্ঠা ছিল মূল চালিকাশক্তি। যখন কিছুই ছিল না, তখনও তিনি অভিভাবকের মতো শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় বহু তরুণ শিল্পী গড়ে উঠেছে এবং অনেকেই শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীরা শহরে একাধিক শিল্প একাডেমি গড়ে তুলেছে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে।
বক্তারা শিল্পী সমীরণ চৌধুরীর স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য চারুকলা ইনস্টিটিউটে তাঁর নামে স্মারক, ভাস্কর্য অথবা গ্যালারির নামকরণের দাবি জানান।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, “শুরুটা কাউকে না কাউকে করতেই হয়। নারায়ণগঞ্জে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছবি আঁকার কোনো কেন্দ্র ছিল না। বলা যায়, সেই শুরুটা সমীরণই করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠান গড়তে তাঁকে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। শুধু ইট-পাথরের কাঠামোই প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষার গুণগত মানই আসল। সেই জায়গায় সমীরণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।”
সভাপতির বক্তব্যে শিল্পী অনুপম বলেন, “পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছেন, যারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বেঁচে থাকেন। সমীরণ চৌধুরী তেমনই একজন। তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এবং এই প্রতিষ্ঠানটির মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন। তিনি শুধু প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নন, তিনি নারায়ণগঞ্জ চারুকলার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। জলরঙে তাঁর পারদর্শিতা তাঁকে আরও দীর্ঘকাল স্মরণীয় করে রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, শিল্পী সমীরণ চৌধুরীর স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।





































