‘মেইড ইন নারায়ণগঞ্জ’ খ্যাত মাসুদুজ্জামানের আজ জন্মদিন
“আমি এই শহরেরই সন্তান। আমি মেইড ইন নারায়ণগঞ্জ। আমার শিকড় এই মাটির অনেক গভীরে”— নিজের পরিচয়ের কথা এলেই কণ্ঠে উঠে আসে নারায়ণগঞ্জ শহরের নাম। গর্বের সঙ্গে তিনি উচ্চারণ করেন তার ‘নারায়ণগঞ্জের সন্তান’ পরিচয়।
ব্যক্তিগত আড্ডা হোক কিংবা রাজনীতির মাঠ—সব জায়গাতেই তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে শীতলক্ষ্যার জল-হাওয়া আর এই লক্ষ্যাপাড়ের মানুষের জীবনসংগ্রাম।
সেই ‘মেইড ইন নারায়ণগঞ্জ’ খ্যাত মাসুদুজ্জামানের জন্মদিন আজ- ৬ জানুয়ারি।
১৯৬২ সালের এই দিনে নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই শিল্পপতি ও ক্রীড়া সংগঠকের শৈশব–কৈশোর কেটেছে শীতলক্ষ্যার পাড়ের এই শহরে। এই নদী, মাটি আর শহরের বাতাসে তার বেড়ে ওঠা। নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রায়ই বলেন, এই শীতলক্ষ্যার পাড়েই তার জীবন গড়ে উঠেছে—এই নদী, এই মাটি আর এই হাওয়ার ভেতর দিয়েই।
ডাঙ্গুলি, ফুটবল আর ক্রিকেটের মাঠেই কেটেছে তার দুরন্ত শৈশব। ছোটবেলার স্মৃতি টানতে গিয়ে তিনি বলেন, এই শহরকে কেন্দ্র করেই তার জীবন আবর্তিত হয়েছে। শৈশবের খেলাধুলা থেকে শুরু করে বেড়ে ওঠা—সবকিছুই এই নারায়ণগঞ্জকে ঘিরে।
বহুমুখী প্রতিভাধর এই মানুষটি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি, সিটিজেন ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিটন—সিসিডিএমের সাবেক সিনিয়র সভাপতি, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যবসা ও ক্রীড়াঙ্গনের বাইরেও সমাজসেবার ক্ষেত্রে রয়েছে তার নীরব কিন্তু ধারাবাহিক ভূমিকা। থ্যালাসেমিয়ার মতো ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় তিনি নিয়মিতভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন—কোনো ধরনের প্রচার ছাড়াই।
এক সময় যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা মাসুদুজ্জামান পরবর্তীতে ব্যবসা, ক্রীড়া ও সমাজসেবায় মনোনিবেশ করলেও রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি কখনোই। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা তিনি অব্যাহত রেখেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এই নেতা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ৩ নভেম্বর দলের প্রথম পর্যায়ের প্রার্থী তালিকায় তার নাম ঘোষণা করা হয়।
তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। মনোনয়নপত্র জমা না দিলেও কর্মীসভায় তিনি তার অনুসারীদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।
নারায়ণগঞ্জের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই সংগঠক জীবনের ৬৪তম বছরে এসেও নিজের জীবনচলার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জকেই। এই শহরের মানুষ, এই শহরের মাটি আর এই শহরের ভবিষ্যৎ—সবকিছু মিলিয়েই তার ভাবনার জগৎ।
তিনি সেই মানুষ, যার জীবন আবর্তিত হয়েছে এই শহরকে ঘিরেই,যার স্মৃতি ও মননে এখনো বয়ে চলে শীতলক্ষ্যার হাওয়া।





































