০৮ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:০৭, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২০:০৮, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জর পাঁচটি আসনে ধর্মভিত্তিক দলের ১৬ প্রার্থী

নারায়ণগঞ্জর পাঁচটি আসনে ধর্মভিত্তিক দলের ১৬ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে ৫৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪০ জনের প্রার্থীতা বৈধ বলে ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

এই বৈধ তালিকার মধ্যে রয়েছে ইসলামী মতাদর্শ ভিত্তিক দলের ১৬ জন প্রার্থী।

জামায়ত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে রয়েছে তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের চারজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চারজন, জামায়াতে ইসলামীর তিনজন, খেলাফত মজলিসের দুইজন এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন একজন।

এছাড়া জোটের বাইরে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী নির্বাচন করছেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। যিনি আবার বিএনপি-জোটের প্রার্থী।

মুফতি মনির হোসেন কাসেমী এবার নির্বাচন করবেন নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসনে। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার মুহতামিম। একই সঙ্গে তিনি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের অর্থ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেই জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনয়নে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন মনির কাসেমী। রাতের ভোট আখ্যা পাওয়া সে নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও তিনি হেরে যান। সে নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেলেও নির্বাচনী এলাকায় তার পরিচিত ছিলো সীমিত। জমিয়তের এই নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী শাসনামলে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ ও হেফাজত কর্মীদের সংঘর্ঘ এবং নারায়ণগঞ্জের সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলাও হয়। এবারে নির্বাচনে তিনি এ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি ও স্থানীয় হেভিওয়েট নেতাদের পেছনে ফেলে মনোনয়ন পান। চেষ্টা করছেন মাঠ গোছানোর।

ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থীরা হলেন: নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) মো. ইমদাদুল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) গোলাম মসীহ্, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) মুফতি ইসমাইল কাউসার ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) মুফতি মাছুম বিল্লাহ।

মো. ইমদাদুল্লাহ ইসলামী আন্দোলনের পুরনো নেতা এবং বর্তমানে তিনি দলটির রূপগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচনের জন্য তার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং বর্তমানে ওই এলাকায় দলীয় কার্যক্রমের প্রধান হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন সুপরিচিত ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় বক্তা হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে সমাদৃত। তিনি সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুকরণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে রূপগঞ্জে আয়োজিত বিভিন্ন গণসমাবেশ ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

গোলাম মসীহ একজন বিশিষ্ট সাবেক কূটনীতিবিদ এবং বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। তিনি সৌদি আরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে হাতপাখা প্রতীকে দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি দীর্ঘ সময় জাতীয় পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকায় রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। সেই সাথে গোছানোর চেষ্টা করছেন নির্বাচনী মাঠ।

আসন্ন ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হলেন মুফতি ইসমাঈল কাউসার যিনি ইসমাইল সিরাজী আল মাদানী পরিচিত। তিনি সৌদি আরবের মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেছেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি বর্তমানে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মাহ পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত জীবনে তিনি হজ ও ওমরাহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান লর্ড ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস এবং এম এ এম ট্রাডিং ইন্টারন্যাশনাল-এর চেয়ারম্যান। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি গত বছর থেকেই ফতুল্লা এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে আসছেন এবং জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

মুফতি মাছুম বিল্লাহ নারায়ণগঞ্জের একজন প্রভাবশালী ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এর আগে তিনি ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে তিনি মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনায় আসেন। অন্যদিকে তিনি একজন ইসলামী বক্তা ও মুফতি হিসেবে ধর্মীয় সভা-সেমিনারে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। মুফতি মাসুম বিল্লাহ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রাজনৈতিক মাঠে তৎপর রয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা হলেন: নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আ. কাইয়ুম শিকদার, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) মো. আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) মো. শাহজাহান, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আনোয়ার হোসেন।

আ. কাইয়ুম শিকদার ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী। তিনি বর্তমানে দলটির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তিনি তার দলের নিবন্ধিত প্রতীক ‘রিকশা’ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন দেওবন্দি ইসলামি ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট আলেম হিসেবে রূপগঞ্জ এলাকায় তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচিতি রয়েছে

মো. আবুল কালাম বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর একজন জেলা পর্যায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি এলাকায় প্রভাবশালী না হলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছানোর চেষ্টা করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হলেন  শাহজাহান তিনি দীর্ঘসময় ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। শিক্ষাগত জীবনে তিনি উচ্চতর এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন শিক্ষিত ও সচেতন  আলেম হিসেবে সমাদৃত। এই নির্বাচনে তিনি তার দলীয় প্রতীক ‘রিকশা’ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে খন্দকার আনোয়ার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সহ-সভাপতি এবং মানবিক সংগঠন ‘এহসান পরিবার’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার নির্বাচনী এলাকায় নিজস্ব অনুসারী রয়েছে।  

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা হলেন: নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আনোয়ার হোসেন মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) মো. ইলিয়াস মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া।

আনোয়ার হোসেন মোল্লা তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মজলিসে শূরার সদস্য। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। তিনি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া সৌদি আরবের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।পেশায় তিনি মূলত একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। তিনি দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড-এর শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মেঘনা ব্যাংকের শরিয়াহ কমিটিতেও তিনি যুক্ত। তিনি ঢাকার উত্তর বাড্ডা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক। তিনি ‘রূপগঞ্জ উন্নয়ন ফোরাম’-এর সভাপতি এবং রমনা পুলিশ কমপ্লেক্স জামে মসজিদের খতিব হিসেবে সুপরিচিত।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. ইলিয়াস মোল্লা। তিনি রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে; তিনি আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন এবং চেয়ারম্যান থাকাকালীন উন্নয়নমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বর্ণপদক’ লাভ করেছিলেন। সংসদীয় আসনে তার প্রভাব না থাকলেও তার ইউনিয়ন এবং আশেপাশের এলাকায় রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হলেন প্রিন্সিপাল ড. মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। তিনি একজন শিক্ষক ও লেখক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে সোনারগাঁ আইডিয়াল কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও তিনি সোনারগাঁ উন্নয়ন ফোরাম ও এডুকেশন রিসার্চ সেন্টারসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। ইতিমধ্যে সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সমর্থনে বড় ধরনের গণসংযোগ ও মোটরসাইকেল শোডাউন সম্পন্ন হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর শক্ত অবস্থানের জানান দিচ্ছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি বর্তমান নির্বাচনে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

খলাফত মজলিসের প্রার্থীরা হলেন: নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) ইলিয়াস আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) এবিএম সিরাজুল মামুন।

ইলিয়াস আহমেদ তিনি একজন ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদ এবং খেলাফত মজলিস এর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জেলাজুড়ে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। নির্বাচনে তার নির্ধারিত প্রতীক খেলাফত মজলিসের দলীয় প্রতীক “দেয়াল ঘড়ি”। এর আগে তিনি প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ফতুল্লা,বক্তাবলী ও কাশীপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ, পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করেন। অনুসারীদের কাছে তিনি একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় নিজস্ব জনসমর্থন তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবিএম সিরাজুল মামুন নারায়ণগঞ্জের একজন ইসলামপন্থী  প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং খেলাফত মজলিস-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এই নেতা দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (বন্দর-সদর) আসন থেকে “দেওয়াল ঘড়ি” প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জেলা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়েছে এবং এর আগে তিনি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন।এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে তিনি জনমনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। বর্তমানে তিনি বন্দর ও সদর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত পথসভা ও প্রস্তুতিমূলক সমাবেশের মাধ্যমে তার দলের রাজনৈতিক দর্শন জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। সেই সাথে তিনি একজন ইংরেজী শিক্ষক হিসেবেও পরিচিত।  

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী,

আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের একজন শীর্ষস্থানীয় প্রবীণ রাজিনীতিবিদ এবং বর্তমান সময়ে ইসলামী ঘরানার রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে খেলাফত শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষে দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় আলেম সমাজে তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বর্তমানে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ‘বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট’ এর সাথে যুক্ত না থাকলেও বরং ২০০৪ সালে মূল দল থেকে বিভক্ত হওয়া অংশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার নির্বাচনী প্রতীক হলো ‘চেয়ার’। তিনি সুফিবাদের আদর্শে বিশ্বাসী এবং পীর হিসেবেও তার অনুসারীদের কাছে অধিক পরিচিত। দেশের অনেক জায়গায় তার অনুসারী রয়েছে। এর আগে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়