সোনারগাঁয়ে ঢাকা বাইপাস সড়কে ২৫০ মিটারজুড়ে ফাটল, আতঙ্ক
গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত ঢাকা বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ে (ঢাকা বাইপাস) চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতাধীন সোনারগাঁয়ের সিংলাব-পাকুন্দা এলাকায় সড়কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় ২৫০ মিটারজুড়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে এসব ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চালক ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শনিবার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখতে পান। কোথাও কোথাও সড়কের পিচ উঠে গিয়ে নিচের স্তর বেরিয়ে এসেছে।
রোববার সড়কটিতে দেখা যায়, বালু ও ইটের খোয়া ফেলে ফাটল ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়েছে। তবে, এতেও সড়কে চলাচলে ঝুঁকি কমেনি বলে জানিয়েছেন যান চালক ও স্থানীয়রা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০২০ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে সময় কয়েক দফায় বাড়িয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে যথাযথ মান বজায় রাখা হয়নি। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
তাদের দাবি, সড়কের দুই পাশে গাইডওয়াল না থাকায় মাটির চাপে সড়কের পূর্ব পাশের অংশ দেবে গেছে। এতে সড়কে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে বৃষ্টির পানি ও যানবাহনের চাপে ফাটল আরও বড় হয়ে সড়কের অংশবিশেষ ধসে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।
পাকুন্দা গ্রামের আমির হোসেন বলেন, “সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে। পুরোপুরি কাজ এখনো শেষ হয়নি। এর আগেই সড়কের এই বেহাল দশার পেছনে অনিয়ম-দুর্নীতি কাজ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছেন ঢাকা বাইপাস সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী। তিনি বলেন, টানা দুই-তিন দিনের বৃষ্টিতে সড়কের ঢাকা অংশের মাটি নরম হয়ে যায়। এরপর ওই অংশ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় নরম মাটি সরে গিয়ে সড়ক দেবে যায়। এ কারণে কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে ডাইভারশন সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। যেখানে মাটি সরে গেছে, সেখানে ড্রিল করে নতুন করে রাস্তা মেরামত করা হবে।





































