হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলায় সেই ডালিম কারাগারে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সদস্য ও কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম ডালিমকে হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। পরে তাকে আরো একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সোনারগাঁ থানার একটি হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন ডালিম। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
ওই মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, পরে তাকে আরেকটি চাঁদাবাজির মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
ডালিমের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী ডালিম। নির্বাচনের আগে তিনি মামলাগুলোতে জামিনে থাকতে চান। এ কারণে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত তার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
৫০ বছর বয়সী ডালিম কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার প্রয়াত কুদরত আলীর ছেলে।
ডালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ছাড়াও হত্যা মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওই মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়। যদিও পরোয়ানাভুক্ত ওই আসামিকে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করলেও ডালিমের উপস্থিতি ছিল প্রকাশ্যে।
গত ২১ জুন তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও দেখা যায়।
পুলিশের সূত্র বলছে, ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর খুন হন একই এলাকার ৩০ বছর বয়সী লিটন। দুইদিন পর নিহতের বড়বোন রাশিদা বেগম সোনারগাঁ থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু। মামলার দুই নম্বর আসামির তালিকায় ছিল ডালিমের নাম।
মামলাটি এখন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় ডালিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে বলেও পুলিশের সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, পরোয়ানাভুক্ত এই আসামিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দেখা যাওয়া চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে ওইদিন দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আটক হন জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। এ যুবদল নেতা নারায়গঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে। তাকে ঢাকা থেকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হলে সেখানে দেখা যায় হত্যা মামলার ফেরার আসামি মো. ডালিমকে।
সজীবকে যখন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের দিকে নেওয়া হয় তখনও তিনি এসপির কার্যালয়ে ছিলেন। ওই সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় বন্দি হন ডালিম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডালিম সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মান্নানের ছেলে সজীবের আটকের খবর পেয়েই তিনি এসপির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সজীবকে গাড়িতে তোলার পরই তিনি এসপি কার্যালয় ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই সময় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির এসপি কার্যালয়ে উপস্থিতির বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। তবে, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। কারও বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকলে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে, সম্প্রতি বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে বিয়ে করার অভিযোগ করেছেন বিধবা এক নারী। মানিকগঞ্জ সদরের বাসিন্দা ফারজানা আক্তার কানন নামে ওই নারীর অভিযোগ, ডালিম তাকে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিয়ে করেছে। কিন্তু পরে সে বিয়ের স্বীকৃতি দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। এমনকি তার আগের স্ত্রীও মুঠোফোনে ওই নারীকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কানন।
বর্তমানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় থাকেন ফারজানা আক্তার কানন। তিনি বলেন, “আমার অসহায়ত্বের সুযোগে প্রতারণা করেছে ডালিম। আমি স্বীকৃতির চাওয়ায় ডালিম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তা চাই। একই সাথে স্ত্রীর স্বীকৃতিও চাই।”
তিনি বলেন, গত বছর ডালিমের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় এবং পরে সখ্যতা গড়ে ওঠে। তার একাকিত্বের সুযোগ নিয়ে ‘মিথ্যা’ আশ্বাস দিয়ে ডালিম তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ওই বছরের ১০ মে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় শরীয়া পদ্ধতিতে তাদের বিয়ে হয় বলেও দাবি করেন ওই নারী।
পরে আনুষ্ঠানিকতা ও বিয়ে রেজিস্ট্রি করার আশ্বাস দিলেও ডালিম তা করেননি বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।





































