২৪ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:২০, ২৩ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৬:২৭, ২৩ আগস্ট ২০২৬

বন্দরের সিফাত বাহিনীর শেখ সিফাতসহ সাতজন ১০ দিনের রিমাণ্ডে

বন্দরের সিফাত বাহিনীর শেখ সিফাতসহ সাতজন ১০ দিনের রিমাণ্ডে
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল হত্যা মামলায় সন্ত্রাসী দল ‘সিফাত বাহিনী’র প্রধান শেখ সিফাতসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশদিনের রিমাণ্ড আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। একই মামলায় আরও চার নারীকে ৩ দিনের রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী এ আদেশ দেন বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

তিনি বলেন, বন্দর থানার হত্যা মামলাটিতে গ্রেপ্তার ১১ জনের বিরুদ্ধেই দশদিনের রিমাণ্ডের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

দশদিনের রিমাণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: মামলায় প্রধান অভিযুক্ত বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহিনের ছেলে শেখ সিফাত (৩২), কদমরসুল এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), একই এলাকার সুলাইমানের ছেলে মো. সিয়াম (২৫), বারপাড়ার রবিউল হোসেনের ছেলে মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), শাহী মসজিদের সোবাহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), চিতাশালের ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯), চৌধুরীবাড়ির সোহেলের ছেলে সিজান ওরফে জিসান (২৬)।

একই মামলায় সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মোসা. মিনারা (৩৫), ওই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা (৩৬), মাসুদ মিয়ার স্ত্রী নাসিমা এবং শাহী মসজিদ এলাকার দ্বীন ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিনকে (৪০) তিনদিন করে রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় নিহত হন ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০)।

এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই পেশায় ব্যবসায়ী বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ২০ আগস্ট বন্দর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়।

এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর থেকেই বুলবুলকে আসামিরা হুমকি দিচ্ছিলো। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা বুলবুলকে লোহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘাষণা করেন।

পরদিন এই ঘটনায় বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। 

এ মামলায় গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আগেরও ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার সহযোগী জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি, রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এসপি মিজানুর রহমান বলেন, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিল।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়