সেলিম ওসমানের আলী হোসেনকে পাশে বসিয়ে আশার ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মুছাপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আলী হোসেনকে পাশে বসিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছেলে ও মহানগর বিএনপির নেতা আবুল কাউছার আশা। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নে সরকারি চাল বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও তার ছেলে আবুল কাউছার আশা। অনুষ্ঠানের মঞ্চে তাদের পাশে আলী হোসেনকেও দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে আবুল কাউছার আশা বলেন, ‘যারা বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামি, যারা ঘোষিত ফ্যাসিস্ট, তাদের ছবি আবার নতুন করে মুছাপুরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে। আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ, আপনারা কি চোখে আঙুল দিয়ে বসে আছেন, আমি জানি না। একটি কথা মনে রাখবেন, ফ্যাসিস্টদের যদি আপনারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাহলে একদিন আপনাদেরও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুছাপুরের যে জিম্মি দশা ছিল, সেই জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়েছে। এই অবস্থা যেন অব্যাহত থাকে এবং মুছাপুর যেন আবার কোনো ফ্যাসিস্টের কবলে না পড়ে।’
তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার সময় একই মঞ্চে সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আলী হোসেনের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বিষয়টিকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে আলী হোসেনকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে প্রভাব বিস্তার, ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি, অবৈধভাবে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার ও জমি দখলসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ওই উপনির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আলী হোসেন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আসন্ন মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে তিনি তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এ ধারাবাহিকতায় তাকে কখনো আবুল কাউছার আশা, কখনো মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং কখনো সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।





































