শামীম ওসমানের ‘রাজনৈতিক কার্যালয়’ থেকে ফের ক্রীড়া ক্লাবের রূপে ফিরছে রাইফেল ক্লাব
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাব পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ক্লাবটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আংশিক সংস্কার করে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা।
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় অবস্থিত রাইফেল ক্লাবটি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শুটিং ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্লাবটি সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় রাইফেল ক্লাবটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ১৯ জুলাই আন্দোলন দমনে শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের অস্ত্র হাতে মাঠে নামার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্লাবটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে ৪ আগস্ট বিক্ষোভকারীরা ক্লাবটিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর থেকেই ক্লাবটি বন্ধ ছিল।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর এবার জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে রাইফেল ক্লাবটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পদাধিকার বলে ক্লাবের সভাপতি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের অনুমতি নিয়ে কয়েকজন সিনিয়র সদস্য ক্লাবটি চালুর কার্যক্রম শুরু করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও সাবেক শুটার এম এ সাত্তার ভুট্টু বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি ক্লাবটি পরিষ্কার করে কার্যক্রম শুরু করতে বলেছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গার অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকি জায়গা সংস্কারের অনুমতি দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘রাইফেল ক্লাব আগের চেয়ে ভালোভাবে চালু হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক ক্লাব নয়, এটি একটি স্পোর্টস ক্লাব। এখানে যারা আসেন, তারা সবাই ভদ্র ও শিক্ষিত মানুষ।’
শামীম ওসমানের আমলে ক্লাবের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছিল দাবি করে এম এ সাত্তার ভুট্টু বলেন, ‘আমি ১৯৭৮ সাল থেকে এই ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। একসময় ক্লাবটিকে সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আমরা এখানে আসতে পারতাম না।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সংঘাতের সময় রাইফেল ক্লাবটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর থেকে এটি বন্ধ ছিল। তবে এটি বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের সক্রিয় সদস্য। সদস্যপদ ধরে রাখতে ক্লাবের কার্যক্রম চালু রাখা জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘ক্লাবের প্রায় ভগ্ন ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও যারা শুটিং প্র্যাকটিস করতে আগ্রহী, তাদের নিয়ে কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
ক্লাবের জমি নিয়ে জটিলতার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, রাইফেল ক্লাবের কিছু অংশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় পড়েছে। ওই অংশ ভেঙে ফেলা হবে। সওজের জায়গা নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জমি বিনিময়ের চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী রাইফেল ক্লাবের সংশ্লিষ্ট অংশ সওজকে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে অংশে সংস্কার কাজ চলছে, সেটি রাইফেল ক্লাবের নিজস্ব জায়গা। সওজের অংশ বাদ দেওয়ার পর এই জায়গা থেকেই প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে। তবে ক্লাবের জন্য স্থায়ী জমিরও খোঁজ করা হচ্ছে। আপাতত শুটিং প্র্যাকটিস সচল রাখতেই অস্থায়ী সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।’





































