১২ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৪৪, ১২ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২১:৪৫, ১২ জুলাই ২০২৬

বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা কমরেড রবীন্দ্র দাসের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা

বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা কমরেড রবীন্দ্র দাসের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা

বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা জেলা সিপিবি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত কমরেড রবীন্দ্র চন্দ্র দাস এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি। 

রবিবার (১২জুলাই)  বিকেল সাড়ে ৪ টায় সিপিবি'র জেলা কার্যালয় বিবি রোডের সিটি দোয়েল প্লাজায় (৫ম তলা) এ স্মরণসভা করা হয়েছে। 

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ চক্রবর্তী, আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মন্টু ঘোষ, দুলাল সাহা, সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও  সাবেক জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এম এ শাহীন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আ. হাই শরীফ, বিমল কান্তি দাস, জেলা কমিটির সদস্য জাকির হোসেন, ইকবাল হোসেন, আব্দুস সোবহান, মৈত্রী ঘোষ, সাবেক যুব নেতা নির্মল সাহা, রবীন্দ্র দাসের পুত্রবধু কমরেড পুষ্প সরকার প্রমুখ।

স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড রবীন্দ্র চন্দ্র দাস ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির নিবেদিত প্রাণ। তিনি কম কথা বলতেন ও বিনয়ের সহিত কথা বলতেন। ছোট বেলা থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরে বড় হয়েছেন। যুব আন্দোলনের মধ্যদিয়ে আশির দশকের শুরুর দিকে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হয়ে ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হয়ে ছিলেন। তিনি কখনো পার্টির সভা সমাবেশে নেতৃত্ব করতেন না কিন্তু পার্টির ভিতরকার সকল পরিস্থিতি তাঁর নজরের মধ্যে থাকতো। তিনি সারাদিন পার্টির কোন না কোন সাংগঠনিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। একেবারে একজন পেশাদার সার্বক্ষণিক কর্মীর মতো বছরের পর বছর কাজ করে গেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীলতার সহিত পার্টি গড়ে তুলার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। 

তারা আরও বলেন, দেশের শ্রমিক মেহনতি মানুষ আজ চরম সংকটে নিমজ্জিত। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এখন পর্যন্ত নতুন তৈরি কোন পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। দেশের কোটি কোটি যুবক বেকার সমস্যায় রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর শতশত শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে লাখ লাখ শ্রমিক কর্ম হারিয়ে বেকারের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু শিল্প কারখানার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও রেশন দেয়ার দাবি বিবেচনায় নিচ্ছে না। হকার উচ্ছেদ, রিকশা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে রুটি রোজগারের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গরীব মেহনতি মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বেগবান করতে হবে। শোষণহীন মানবিক সমাজ বিনির্মাণে লক্ষ্যে কমরেড রবীন্দ্র দাস সারাটা জীবন ব্যায করেছেন। সেই সংগ্রাম আমাদের এগিয়ে নিতে হবে। শ্রেণী সংগ্রামের মধ্যে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

পরিশেষে নেতৃবৃন্দ রবীন্দ্র দাসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়