২৬ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ২৫ আগস্ট ২০২৬

ট্রাফিক বক্সের সামনেই সড়ক দখল করে উৎসব-বন্ধনের ‘দাদাগিরি’

ট্রাফিক বক্সের সামনেই সড়ক দখল করে উৎসব-বন্ধনের ‘দাদাগিরি’

নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম ২নং রেলগেইট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনেই সড়কের একটি লেন দখল করে যাত্রী তুলছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের বাস। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ অব্যবস্থাপনায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়কের এক লেনজুড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের বাস। যাত্রী ওঠানোর জন্য চালকেরা ইচ্ছামতো সময় নিয়ে বাস দাঁড় করিয়ে রাখছেন। একটি বাস ছাড়ার পরপরই আরেকটি বাস একই স্থানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে। এতে সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পেছনে তৈরি হচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এ যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে চাষাঢ়া, ২নং রেলগেইট, টানবাজার ও নয়ামাটি এলাকায় চলাচলকারী মানুষকে বাড়তি সময় নিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

সড়কটির দুই পাশে রয়েছে টানবাজার, নয়ামাটি ও দিগুবাবুর বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। কাছেই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, বন্দর খেয়াঘাট ও রেলস্টেশন। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ সড়কে থাকে মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনেই বাসগুলো সড়ক দখল করে যাত্রী তুললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যায় না। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে বাসচালকদের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতাও তৈরি হচ্ছে।

নয়ামাটি এলাকার হোসিয়ারি ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া বলেন, “আমাদের মালামাল এই রাস্তা দিয়েই আনা-নেওয়া করতে হয়। বাসগুলো এমনভাবে দাঁড় করিয়ে রাখে যে, বাস না সরানো পর্যন্ত অন্য গাড়ি চলতে পারে না। অথচ এখানেই ট্রাফিক পুলিশ বক্স রয়েছে।”

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “বাসের কারণে ২নং রেলগেইটে জ্যাম বেশি হয়। ওদের এখান থেকে সরিয়ে দিলে অর্ধেক জ্যাম কমে যাবে। ছোট গাড়ি দেখলেই পুলিশ কাগজপত্র দেখতে চায়, জরিমানা করে। কিন্তু এসব বাস দিনের পর দিন রাস্তা দখল করে রাখলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।”

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, ২নং রেলগেইট এলাকায় বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শহরের ভেতর থেকে বাস টার্মিনাল সরানো গেলে যানজট অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, “আমি তাদের (বাসচালকদের) বারবার নিষেধ করেছি, যাতে এই জায়গায় গাড়ি না রাখা হয়। কিন্তু তারা তা মানছে না। বিষয়টি নিয়ে মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করব। এরপরও না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় নাগরিক প্রতিনিধিরা চাষাঢ়ার পর ২নং রেলগেইটকে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে উল্লেখ করেন। এ এলাকার যানজট নিরসনে সড়ক প্রশস্ত করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাবও উঠে আসে।

নগরবাসীর দাবি, ব্যস্ততম এই সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনেই যদি সড়ক দখল করে বাস চলাচল করতে পারে, তাহলে আইন মানার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হবে। দ্রুত অবৈধভাবে সড়ক দখলমুক্ত করে যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়