প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় নগরবাসী
নারায়ণগঞ্জে ‘২০ মাদক স্পটে’ অভিযান কবে?
নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ‘২০টি মাদক স্পট’-এ কবে একযোগে অভিযান শুরু হবে—এ প্রশ্ন এখন নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। নির্বাচনী সময় সোনারগাঁয়ে এক জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশে অন্তত ২০টি স্থানে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলে বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং কঠোর হাতে তা দমনের ঘোষণা দেন। গত ২৬ জানুয়ারি দেওয়া সেই বক্তব্যের পর তার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলেও বাস্তবে সমন্বিত অভিযান কবে শুরু হবে—তা নিয়ে কৌতূহল ও প্রত্যাশা বাড়ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক সময় অভিযান চালিয়ে কিছু ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করলেও পুরো নেটওয়ার্ক ভাঙা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কিছু এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক লেনদেন হয়—এমন অভিযোগ বহুদিনের। ফলে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখ করা ২০টি স্পটকে কেন্দ্র করে একযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা তীব্র হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতার সুযোগ নিয়ে শহরে মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় এলাকা–ভিত্তিকভাবে ‘মাদক সম্রাট’ তৈরি হচ্ছে, যারা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে প্রকাশ্য ও গোপনে মাদক কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে কিছু কারবারি ধরা পড়লেও মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই একই এলাকায় আবার মাদক ব্যবসা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ মাদকে জড়িয়ে পড়ছে, বাড়ছে ছিনতাই, চুরি ও নানা সামাজিক অপরাধ।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদক ব্যবসা এখন সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। সে কারণে অনেক সময় অভিযান হলেও কিছুদিন পর আবার একই এলাকায় মাদক কারবার শুরু হয়। নগরবাসীর বড় অংশের মত—শুধু ছোট কারবারিদের ধরলে সমস্যার সমাধান হবে না; মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সমাজকর্মীদের মতে, মাদক শুধু অপরাধ নয়—এটি বড় সামাজিক সংকট। তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ মাদকে জড়িয়ে পড়ায় পারিবারিক অশান্তি বাড়ছে, শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অপরাধপ্রবণতা তৈরি হচ্ছে। শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক তরুণ বসবাস করায় সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আলোচিত ২০টি স্পটে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারলে তা অপরাধ দমনের পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক নগরী। এখানে মাদক নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলে তা সরকারের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের মিল ঘটানো রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনের আগে দেওয়া ঘোষণা বাস্তবে রূপ নিলে শহরের পরিবেশ বদলাবে; মাদক কমলে ছিনতাই, চুরি ও কিশোর অপরাধও কমতে পারে।
সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ২০টি মাদক স্পটে কবে সমন্বিত অভিযান শুরু হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব কার্যক্রমের মিল কবে দেখা যাবে—এ অপেক্ষায় নগরবাসী।





































