শততম তারিখেও জমা পড়েনি ত্বকী হত্যার চার্জশিট, পিতার ক্ষোভ
দীর্ঘ সময়েও মেধাবী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার বিচার শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পিতা ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি।
তিনি বলেছেন, “শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এবং এতে তার মৃত্যু হয়। গত কয়েকদিন আগে তার হত্যার অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে। অথচ আর দুই মাস হলে ত্বকী হত্যার ১৩ বছর পূর্ণ হবে। গতকাল ধার্য তারিখ ছিল শততম, এর মধ্যেও চার্জশিট দিতে পারেনি।”
“শেখ হাসিনা বিচার বিভাগ যেভাবে ধ্বংস করে রেখে গিয়েছিল, তার বিদায়ের পর আজ পর্যন্ত এর উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, শেখ হাসিনা যেভাবে বেছে বেছে বিচার করেছেন, আজ ঠিক একইভাবে বেছে বেছে বিচার করা হচ্ছে”, যোগ করেন রাব্বি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৫৪ মাস উপলক্ষে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখেছি, শেখ হাসিনা শামীম ওসমানকে রক্ষা করার জন্য সাড়ে এগারো বছর এই বিচার বন্ধ করে রেখেছিল। এখনো শেখ হাসিনার এই ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকার পরিবর্তন হলেও এই দুরাবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
“চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানটি হয়েছিল বৈষম্যহীন সমাজ এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। এবং দলমত নির্বিশেষে সকলের আকাঙ্ক্ষা ছিল যে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ এখানে গড়ে উঠবে। কিন্তু সেই অভ্যুত্থানের পরে বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং ভিন্নমতকে দমানোর জন্য একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী হিংস্র হয়ে উঠেছে। এবং আমরা দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হচ্ছে, সেটি দমানোর জন্য সরকারের কোন জোরালো ভূমিকা নেই।”
অন্তর্বর্তী সরকার ১৭ মাসেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে বিচার নিশ্চিত করতে না পারায় লাভটা কার হয়েছে, সেই প্রশ্নও রাখেন ত্বকীর পিতা।
তিনি বলেন, “যে সংস্কারে জনগণের কোন উপকার হবে না, রাষ্ট্রের কোনো পরিবর্তন হবে না, সেই সংস্কারের প্রয়োজন কী? সাগর-রুনি ও তনু হত্যার বিচার যে জায়গায় ছিল সেটি সেখানেই রয়েছে। কোনো অগ্রগতি দেখছি না।”
এ সময় ত্বকী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের আশিক, চঞ্চল, ভুলুসহ অন্যান্য হত্যাকাণ্ডেরও বিচার দাবি করেন।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিনের সঞ্চলনায় আরও বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, সমমনার উপদেষ্টা দুলাল সাহা, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দিপু, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, ভবানী শংকর রায়, সুজন’র জেলা আহ্বায়ক ধীমান সাহা জুয়েল, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন, নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, বাসদ’র জেলা সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক মহিলা সমাজের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, আবৃতিশিল্পী ফাহমিদা আজাদ ও শিল্পী অমল আকাশ প্রমুখ।





































