প্রশাসকের চিঠির পর রাজউকের আদলে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন
পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আদলে নারায়ণগঞ্জে পৃথক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র চিঠির পর এ কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হয়।
নারায়ণগঞ্জ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক একটি খসড়া অধ্যাদেশও প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
খসড়া অধ্যাদেশে পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা, ভূমি ব্যবহার ও নির্মাণ আইন লঙ্ঘন রোধে কঠোর দণ্ডবিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রতিরোধ, দুর্যোগ-সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং নাগরিক জীবনের মান উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) বর্তমান প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
চিঠিতে তিনি বলেন, “নাসিকের প্রায় ৭২ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটারে ২০ লাখ মানুষের বসবাস। যেখানে নগরায়নের প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ পক্ষান্তরে সারাদেশে প্রায় ৩ এবং ঢাকায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামীতে নাসিকের সীমানা ও জনসংখ্যা বাড়বে। তাই নাসিকের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘নারায়ণগঞ্জ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা প্রয়োজন।”
অধ্যাদেশ কার্যকর হলে সরকার নারায়ণগঞ্জে একটি সংবিধিবদ্ধ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায়। প্রয়োজনে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।
কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য। সদস্যদের মধ্যে থাকবেন- গণপূর্ত অধিদপ্তর মনোনীত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মনোনীত উপসচিব পদমর্যাদার প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক মনোনীত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), স্থাপত্য অধিদপ্তর মনোনীত নির্বাহী স্থপতি এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং কেউ একই পদে দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না।
নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। এ লক্ষ্যে ভূমি জরিপ, সমীক্ষা ও গবেষণা পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে যেকোনো ধরনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, বিধিবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণ, দুর্যোগ-সহনশীল ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সড়ক, মহাসড়ক, নৌ ও রেলপথ নির্মাণেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের বিধান রাখা হয়েছে।
অপরিকল্পিত, অপ্রশস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা উচ্ছেদ করে নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের কথাও অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে। নিম্নবিত্ত, বস্তিবাসী ও গৃহহীনদের আবাসন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী মহাপরিকল্পনায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকার অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ, উদ্যান ও জলাধার সংরক্ষণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে মহাপরিকল্পনা গেজেট ও জাতীয় দৈনিকে প্রাক-প্রকাশ করা হবে। প্রাক-প্রকাশের পর ৬০ দিনের মধ্যে আপত্তি বা পরামর্শ দাখিলের সুযোগ থাকবে। সর্বোচ্চ ১০৫ দিনের মধ্যে সংশোধন করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।





































