২০ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ১৯ আগস্ট ২০২৬

সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুই ভাইয়ের অনুসারীদের সংঘর্ষ, আহত ১০

সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুই ভাইয়ের অনুসারীদের সংঘর্ষ, আহত ১০

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সম্পর্কে আপন দুই ভাই এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই দুই নেতার দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুরেরও অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আষাড়িয়ারচর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও একই কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল আপন দুই ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে আধিপত্য ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে ওই এলাকায় প্রায়ই উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান।

বুধবারের সংঘর্ষে আব্দুর রউফের পক্ষের আবুবক্কর সিদ্দিক, মফিজুল ইসলাম, ইয়ানবী, বাবুল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুল জলিলের পক্ষের সবুর খান ও আব্দুল লতিফসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই ভাইয়ের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর আগেও তাদের বিরোধের জেরে এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং তা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তারা।

বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন এর আগেও তার অনুসারীদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। প্রায় দুই মাস বিরতির পর বুধবার তিনি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ও তার অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

তবে আব্দুর রউফের অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল জলিল বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার এক অনুসারীকে একা পেয়ে হামলা করে। পরে তাকে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজনের চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে সংঘর্ষের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এর আগেও দুই ভাইয়ের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল বা তৃতীয় পক্ষ দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়