১০ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৩৬, ৯ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২২:০১, ৯ আগস্ট ২০২৬

বিভক্তির অতীত ভুলে ঐক্যবদ্ধ নারায়ণগঞ্জের পাঁচ এমপি

বিভক্তির অতীত ভুলে ঐক্যবদ্ধ নারায়ণগঞ্জের পাঁচ এমপি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একই দলের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ছিল প্রকাশ্য। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য না থাকলেও ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের অভাব ছিল। অনেকের মতে, সেই বিভক্ত রাজনীতির প্রভাব পড়েছিল জেলার উন্নয়নেও।

তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। দলীয় পরিচয় আলাদা হলেও জেলার উন্নয়নের প্রশ্নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়া নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্য।

গত শনিবার নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এক মঞ্চে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে চারজন বিএনপির এবং একজন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিল্প-বাণিজ্যের বিকাশ এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তারা।

অনুষ্ঠানে চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান বলেন, পাঁচ সংসদ সদস্যের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো কোন্দল নেই। এই ঐক্য নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “উন্নয়নে আপনারা একসঙ্গে কাজ করবেন এবং আপনাদের মাধ্যমেই উন্নয়ন হবে বলে মনে করি।”

একই সঙ্গে জেলার স্বার্থে একজন মন্ত্রী দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, জেলার উন্নয়নের দাবিগুলো বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিতভাবে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করি। এটা না করে আমাদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে একই ডিও লেটারে আমাদের পাঁচজন এমপিরও স্বাক্ষর থাকবে। আমরা বিরোধী দল, সরকারি দল যারাই থাকি না কেন, নারায়ণগঞ্জের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।”

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, “আমরা প্রত্যেক সংসদ সদস্য আগামীর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার জন্য উন্নয়নমূলক কাজে অংশীদার হব। সুন্দর ও প্রগতিশীল নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে আমরা একত্রে আছি।”

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বারের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, ব্যবসায়ীসহ জেলার উন্নয়নে যারা নেপথ্যে কাজ করেন, তাদের পরামর্শ নিয়েই তারা এগিয়ে যেতে চান।

“সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করব,” বলেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও জনস্বার্থের প্রশ্নে তারা একসঙ্গে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, “আমি বিরোধী দলের এমপি। কিন্তু সরকারি দলের কাউকে সঙ্গে নিয়ে গেলে যদি মানুষের কাজটা তুলে আনা যায়, তাহলে আমি তার কাছে যাই। আমাদের মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ।”

এনসিপির এই সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, “আব্দুল্লাহ আল আমিন সাহেবকে আমরা অন্য দলের বলে মনে করি না, তাকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চাই।”

তিনি বলেন, “অতীতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু বোঝেনি। তাই নারায়ণগঞ্জ এখনো ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের জন্য আমরা পাঁচজন এমপি এক আছি। ব্যবসায়ীদের পাশেও আছি। একসঙ্গেই কাজ করে যেতে চাই।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের প্রশ্নে দলীয় বিভাজনের চেয়ে সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ঐক্য ও সমন্বয় বজায় থাকলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিল্প ও ব্যবসার প্রসার, সরকারি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং জেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক গতি আসতে পারে। এর সুফল ভোগ করবেন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়