মিত্র থেকে মুখোমুখি ছাত্রদল-শিবির
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে একই কাতারে আন্দোলন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তবে সেই রাজনৈতিক সমীকরণ দুই বছরের ব্যবধানে পাল্টে গিয়ে দুই সংগঠন এখন মুখোমুখি অবস্থানে।
বুধবার (৫ আগস্ট) নগরীর সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি তোলারাম কলেজেও এমন সহিংস ঘটনার নজির ছিল না।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কলেজ ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরকারবিরোধী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলের পর সেই দুই সংগঠনই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
অবশ্য নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরোধ একেবারে নতুন নয়। ২০১৪ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। সেবার শহরের ডিআইটি এলাকায় শুরু হওয়া শোভাযাত্রা গলাচিপা মোড়ে পৌঁছালে বাগ্বিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত ধ্রুব নামের একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও একটি ব্যাংকের কার্যালয়ের কাচ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
এক দশক পর আবারও সংঘর্ষে জড়াল দুই সংগঠন। বুধবারের ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিপেটা ও ইটপাটকেলের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাদের অভিযোগ, আলোচনা সভা শেষে কলেজ শাখার সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুলহাস বের হওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।
ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি অমিত হাসান বলেন, কলেজের ভেতরে ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানান।
অন্যদিকে, সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম জিয়া দাবি করেন, আলোচনা সভায় শিবির আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের পর শিবিরের নেতাকর্মীরাই প্রথম হামলা চালায়। পরে ছাত্রদল তা প্রতিরোধ করে। একই সঙ্গে তিনি তোলারাম কলেজকে "শিবিরমুক্ত" ঘোষণা করার কথাও বলেন।





































