‘যে কারণে শামীম ওসমানরা ঘৃণিত সেইসব অপকর্ম বর্জন করতে হবে’
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, “শামীম ওসমান বা অয়ন ওসমানের বিদায়ের পর শুধু নামের পরিবর্তন হওয়াটা কোনো পরিবর্তন নয়। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই আসবে, যখন যেসব অপকর্মের কারণে তারা জনগণের কাছে ঘৃণিত হয়েছিল, সেগুলো আমরা বর্জন করব। অন্যায়ের মধ্যে যদি আমিও ঢুকে যাই, তবে আমার দ্বারাও কোনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না।”
রোববার (৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতি বক্তৃতামালা (সিরিজ-১)’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার ‘পাঠচক্র ও শিক্ষা সেল’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির রূপান্তর তারুণ্য, সুশাসন ও নতুন সম্ভাবনা’ শীর্ষক সভায় জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়।
এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “কত মানুষ হাত হারিয়েছে, পা হারিয়েছে। এই জুলাই মানেই আমার চোখে ভেসে ওঠে হাবিবের মুখটা। এত সুন্দর একটা ছেলে, অথচ আজ তার চোখ নেই। কেন? সে কি কারও জমি দখল করতে গিয়েছিল, নাকি ৫ টাকা চাঁদাবাজি করতে গিয়েছিল? কোনো স্বার্থ ছাড়াই সে দেশের জন্য চোখ হারিয়েছে। অথচ সেই আত্মত্যাগের ওপর বসে আজ যদি কেউ লুটপাট আর ধান্দাবাজি করে, তবে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা কোথায় গেল? গণ-অভ্যুত্থান শুধু মুখে মুখে বলার বক্তব্য নয়, এটি মানুষের ভেতরের সেই আকাঙ্ক্ষা যা আমার বাবা থেকে শুরু করে প্রত্যেক প্রজন্মের মানুষকে রাস্তায় নামিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যেন এমন একটি রাজনীতি করি যা মানুষকে সন্তুষ্ট করবে, বাংলাদেশকে একটি ‘ড্রিমল্যান্ড’ বা স্বপ্নের দেশ বানাবে। বড় বড় ব্যবসায়ীরাও আজ আক্ষেপ করে বলেন, তারা কোটি টাকার প্রতিষ্ঠানের মালিক হলেও বাংলাদেশি হিসেবে গর্ববোধ করতে পারেন না; কারণ ট্রেড লাইসেন্স নিতে গেলেও চাঁদা দিতে হয়। এই সংকট থেকে বের হতে আমাদের নিজেদের সাথে একটা কমিটমেন্টে আসতে হবে। অল্প কিছু মানুষ যদি সততার সাথে উদ্যোগ নেয়, তবে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব।”
নিজের রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, “একজন রাজনীতিবিদ যদি টেম্পু স্ট্যান্ড, সুতার ব্যবসা বা মানুষের ওপর জুলুম করে চাঁদা নিয়ে রাজনীতি করেন, আর আমি যদি নিজের আয়ের সৎ উপার্জনের টাকা দিয়ে রাজনীতি করি সেটাও একটা সংগ্রাম। এই পরিবর্তনটা যতদিন আমরা করতে না পারব, ততদিন নতুন দলের নাম ভাঙিয়ে বা এমপি হয়েও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যাবে না। আমাদের চোখের সামনেও অনেক ছাত্রনেতা কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে। কিন্তু সৎ পথে থাকাটা একটা চয়েস। আমাদের এখন ভবিষ্যৎমুখী সৎ রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনগণ শুধু ব্যক্তি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে ভালো দেখতে চায় না, তারা চায় আমার মাধ্যমে পুরো সমাজটার যেন ভালো হয়।”
এনসিপির মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও শিক্ষা সেলের সম্পাদক আবুল খায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক ও সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং লেখক ও বুদ্ধিজীবী রক মনু।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা হাবিবুর রহমান, কবি আরিফ বুলবুল, এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, এনসিপি নেতা জাবেদ আলম, ছাত্রশক্তির মাহফুজ খান, জহিরুল ইসলাম, সারফারাজ হক সজীব ও নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।





































