০৫ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ৫ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৯:০৩, ৫ জুলাই ২০২৬

মাসদাইরে হত্যা: সিজানকে পেটানোর ঘটনায় ‘আল ফালাহ’র সম্পৃক্ততা অস্বীকার নেতাদের

মাসদাইরে হত্যা: সিজানকে পেটানোর ঘটনায় ‘আল ফালাহ’র সম্পৃক্ততা অস্বীকার নেতাদের

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় সিজান (২২) নামে এক যুবককে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ‘আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন’ পাল্টা বক্তব্য দিয়ে নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছে।

সংগঠনটির দাবি, বিক্ষুব্ধ বহিরাগত জনতার হাত থেকে সিজানকে উদ্ধার করে সুস্থ অবস্থায় তার মায়ের কাছে মুচলেকা রেখে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের ডেকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় আল ফালাহ সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম মুফতি কাওছার কাসেমী বলেন, “নিহত সিজান এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী ছিলেন এবং তার কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। তাকে সংশোধনের জন্য আগে বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি ‘বায়তুস সাকাফাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন’-এর সহযোগিতায় তাকে ৪০ দিনের চিল্লাতেও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু ফিরে এসে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”

কাওছার কাসেমীর দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সিজানকে ধরে তাদের কাছে নিয়ে আসে। এ সময় তারা নামাজ শেষে বিষয়টি দেখার কথা জানিয়ে মসজিদে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। পরে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে তার মা অনুরোধ করায় মুচলেকা নিয়ে সুস্থ অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, সিজানের কাছে তখন সুইচ গিয়ার ও মাদকদ্রব্য পাওয়া গিয়েছিল। তার মৃত্যুর পর সংগঠনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সংগঠনের নেতা জিলানি ফকির সাহেব বলেন, “সিজানকে মারধরের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে তাদের কোনো সদস্য জড়িত ছিলেন না। তারা তখন নামাজে ছিলেন এবং বহিরাগত ক্ষুব্ধ লোকজনই মারধর করে থাকতে পারে।”

এদিকে, সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, সিজানকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বড় ভাই বাবুর নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং তাদের কার্যালয় ও আশপাশের দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। এর প্রতিবাদে তারা এলাকায় মিছিলও করেন।

সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, তারা সবসময় আইন মেনে কাজ করেন এবং অতীতে অপরাধীদের ধরেও পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায়ও একই চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান তারা। একইসঙ্গে সঠিক তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে একই এলাকায় সিজানকে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগে হাত-পা বেঁধে মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু করা হবে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়