এমপি পুত্র আটকের পর আতঙ্কে চাঁদাবাজরা
শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবহন খাত, হাট-বাজার, মাঠ-ঘাটজুড়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ক্ষমতার পালাবদল হলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি এমন অভিযোগও উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাঁদাবাজি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে ইতোমধ্যে তালিকা প্রণয়ন ও অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটক করাকে নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সজীবের বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা যায়। এ প্রেক্ষিতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারও দেখানো হতে পারে।
এদিকে, এমপি পুত্র আটকের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অনেকের মতে, যেখানে একজন সংসদ সদস্যের ছেলে ছাড় পাচ্ছেন না, সেখানে অন্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পৃথক তালিকায় নারায়ণগঞ্জে শতাধিক চাঁদাবাজের নাম উঠে আসে। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৬৫০ জন শীর্ষ চাঁদাবাজের তালিকায় নারায়ণগঞ্জের ১১০ জন রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানোর কথাও জানানো হয়।
গত কয়েক মাসে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। গত বৃহস্পতিবার মৌমিতা পরিবহনের শ্রমিকরা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সদস্য মাহবুবউল্লাহ তপন এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরা সরদারের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন।
এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহসভাপতি এসএম আসলাম ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক টিএইচ তোফাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ দিনের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ এমপি পুত্র আটকের ঘটনায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের বার্তা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



































