১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২১:৩৬, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দুই আসনেই জামানত হারালেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন

দুই আসনেই জামানত হারালেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। শুধু পরাজিতই নন, বড় ব্যবধানে দুই আসনেই হেরে যাওয়ায় তাঁর জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জের একজন প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ (তৎকালীন ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান-কে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি শতাধিক রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হন। এ কারণে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকতে পারেননি। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর আগে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে তিনি ফের সক্রিয় হন। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর কমিটি বাতিল করে বিএনপি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪—দুই আসন থেকেই বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ কারণে তাঁকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত হওয়ার পরও নেতাকর্মীদের নিয়ে দুই আসনেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তাঁর সমর্থকদের ধারণা ছিল, নির্বাচিত হলে দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তবে দুই আসনেই বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। এমনকি দুটি আসনেই তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জমা দেওয়া জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে তিনি পেয়েছেন বৈধ ভোটের ৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে পেয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬ জন। এর মধ্যে ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ বা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬ জন ভোট দেন। বৈধ ভোট ছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৫২টি এবং বাতিল ভোট ৭ হাজার ৭৬৪টি। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট, যা বৈধ ভোটের ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। যদিও সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলকে তাঁর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো, ভোটের মাঠে সেই প্রভাব দেখা যায়নি।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। ভোট দিয়েছেন ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ জন। বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৭২৯টি এবং বাতিল ভোট ৬ হাজার ৩৫৯টি। এ আসনে তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৭৯ ভোট, যা বৈধ ভোটের মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফলের পর নারায়ণগঞ্জ ও বিএনপির রাজনীতিতে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পুনরুত্থান সহজ হবে না। কেউ কেউ এই পরাজয়কে ‘ভরাডুবি’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার কথা বলছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়