১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ১২:০৩, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৪ লাখ ভোটারের রায়ে নির্ধারিত হবে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ

২৪ লাখ ভোটারের রায়ে নির্ধারিত হবে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ

পাড়া-মহল্লা, রাস্তাঘাট, চায়ের দোকান—সব জায়গায় এখন একটাই আলোচনা, ‘১২ ফেব্রুয়ারির ভোট’। দীর্ঘ দেড় দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংসদ নির্বাচন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ২৪ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্ধারণ করবেন জেলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পর সৃষ্ট অস্থির পরিস্থিতি এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার স্থিতিশীল করবে—এমন প্রত্যাশা ভোটারদের। এ লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা সবার।

জেলায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ জন, নারী ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২০ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ৬০২টি ভেন্যুতে ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।

এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাসদ, সিপিবি, রিপাবলিকানসহ বিভিন্ন দলের মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে নতুন সীমানা অনুযায়ী নগরীর ১১–২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলার বন্দর, কলাগাছিয়া, মুছাপুর, ধামগড় ও মদনপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৪ জন। পুরুষ ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৬৬ জন, নারী ২ লাখ ৪১ হাজার ৫১০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। ১৩০টি ভেন্যুতে ১৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ।

এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন (ফুটবল), বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম (ধানের শীষ), গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম সুজন (মাথাল), ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন (দেওয়ালঘড়ি), বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব (মই), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা (ছড়ি), সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ (কাস্তে) ও গণঅধিকার পরিষদের নাহিদ হোসেন (ট্রাক)।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদর আংশিক) আসনে ফতুল্লা থানা ও সদর উপজেলার কুতুবপুর, বক্তাবলী, কাশীপুর, এনায়েতনগর, গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। ৯৭টি ভেন্যুতে ১৭৭টি কেন্দ্র, এর মধ্যে ৭৩টি ঝুঁকিপূর্ণ।

১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও জাতীয় পার্টির সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন সরে দাঁড়ানোয় চূড়ান্ত লড়াই ১১ জনের মধ্যে। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন—মনির হোসাইন কাসেমী, মোহাম্মদ শাহ আলম, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল্লাহ আল আমিন, মুফতি ইসমাঈল সিরাজী, সেলিম মাহমুদ, মো. সুলাইমান দেওয়ান, ইকবাল হোসেন, আরিফ ভূঁইয়া ও সেলিম আহমেদ।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ) আসনে সোনারগাঁ উপজেলা ও সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬ জন। ১৫৫টি ভেন্যুতে ২১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ।

এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—আজহারুল ইসলাম মান্নান, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, রেজাউল করিম, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, অঞ্জন দাস, আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, গোলাম মসীহ, আবদুল করিম মুন্সী, মো. শাহজাহান, আরিফুল ইসলাম ও মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮ জন। ১১১টি ভেন্যুতে ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর, হাফিজুল ইসলাম, ইলিয়াস মোল্লা, কামরুল মিয়া ও মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন। ১০৯টি ভেন্যুতে ১২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দুলাল হোসেন ও ওয়াসিম উদ্দিন সরে দাঁড়ানোয় চূড়ান্ত লড়াই ৫ জনের মধ্যে—মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, আনোয়ার হোসেন মোল্লা, মো. ইমদাদুল্লাহ, মনিরুজ্জামান চন্দন ও মো. রেহান আফজাল।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলায় ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আচরণবিধি তদারকিতে ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়