কালামেই ভরসা রাখলেন সদর-বন্দরবাসী
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের ভোটাররা আবারও পুরাতনে আস্থা এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে জয়ী করেছেন। একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বিজয়ী হয়ে প্রমাণ করলেন, সদর-বন্দরবাসীর আস্থা শুধু নতুন বা পরিচিত মুখের নয়, পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বের প্রতিও দৃঢ়।
তবে, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা রাজনৈতিক দলের সমর্থন পাওয়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুনও হেরেছেন অল্প ভোটের ব্যবধানে।
শিল্প-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে হাই-ভোল্টেজ। মূল শহর নিয়ে গঠিত এই আসনটি জেলার রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ নির্বাচনে জনপ্রিয় প্রবীণ-তরুণ মিলিয়ে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটাররা স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন যে, শেষ পর্যন্ত তাদের আস্থা অভিজ্ঞ নেতৃত্বের দিকে। পুরাতন আস্থা, প্রমাণিত কাজ এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়তার সমন্বয় আবুল কালামকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে রেখেছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এই ফলাফল শুধু একটি ভোটের জয় নয়, বরং সদর-বন্দরবাসীর রাজনৈতিক পছন্দের ধারাবাহিকতা ও শক্তি প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবেও দেখা যাচ্ছে।
সদর ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৪ জন। তাদের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, অর্থাৎ ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫৭ ভোট বৈধ এবং ৭ হাজার ৮৯৩ ভোট বাতিল হয়েছে।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন মহানগর বিএনপির সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, ক্লিন ইমেজ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং পারিবারিক প্রভাবের কারণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিনি শক্তিশালী ও সম্মানিত একজন রাজনৈতিক নেতা।
আবুল কালামের বাবা জালাল হাজী ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। জাতীয় সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনে মাত্র সাড়ে ১৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারেন ইসলামিক ও সমমনা ১০ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন। তিনি ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন একজন শিক্ষক, ক্লিন ইমেজ এবং ইসলামীক বক্তৃতা হিসেবে শহরে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। এছাড়া নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সমর্থন এবং ইসলামপন্থি ভোটব্যাংকের কারণে শহরে তার শক্ত অবস্থান ছিল।
ভোটের দিক থেকে ৩৪ হাজার ১৫১ ভোট পেয়ে আসনটিতে তৃতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাকসুদ হোসেন। তিনি বন্দর উপজেলা ও মুছাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। দীর্ঘ সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি প্রভাবশালী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। তার দীর্ঘদিনের স্থানীয় জনসংযোগ এবং সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তৈরি করেছিল।
এছাড়া আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মো. মাছুম বিল্লাহ ৭ হাজার ৭০৮, সিপিবি’র মন্টু চন্দ্র ঘোষ ১ হাজার ৫৭৫, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম ১ হাজার ২৩, গণঅধিকার পরিষদের মো. নাহিদ হোসেন ৬৪৩, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী ৪ হাজার ৬৫০, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব ৩৭০ এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা ২৪২ ভোট পেয়েছেন।





































