০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ১৯:৫৩, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘হাতের মুঠোয় এমপি’

প্রচারণায় ভিন্নতা, ভোটারদের আগ্রহে তারিকুল সুজন

প্রচারণায় ভিন্নতা, ভোটারদের আগ্রহে তারিকুল সুজন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনের রাজনীতিতে প্রচলিত হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভিড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তরুণ প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সুজন। গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা ভোটের মাঠে চিরাচরিত প্রচারণার ধারা থেকে সরে এসে বেছে নিয়েছেন নতুন ও ভিন্নধর্মী কৌশল। বিশাল শোডাউন, ব্যানার–ফেস্টুনের সয়লাবের পরিবর্তে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, ভোটারদের দ্বারপ্রান্তে যাওয়া, সরাসরি সংলাপ এবং অমীমাংসিত নাগরিক সমস্যা সমাধানে অঙ্গীকার—এসব উদ্যোগ ভোটারদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নারায়ণগঞ্জের নাগরিক জীবনের বহুল পরিচিত অথচ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোই তার প্রচারণার মূল ভিত্তি। জলাবদ্ধতা, যানজট, বেকারত্ব, ডেঙ্গু, মাদক ও সন্ত্রাসের মতো ইস্যুগুলোকে তিনি কেবল স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং মাঠপর্যায়ের কাজ, নাগরিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক অবস্থানের মাধ্যমে নিজেকে এসব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত একজন প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরছেন।

চিরাচরিত নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে এসে তারিকুল ইসলাম সুজন শোডাউন, বড় গণসংযোগ কিংবা অসংখ্য ব্যানার–পোস্টারের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা নির্বাচনী এলাকায় হেঁটে হেঁটে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরছেন। তারিকুল ইসলামের দাবি, এ ধরনের মুখোমুখি সংলাপই একজন জনপ্রতিনিধিকে জনগণের বাস্তব চাহিদা বুঝতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে।

এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা কৌশল ভোটারদের সঙ্গে তার দূরত্ব কমাচ্ছে এবং তাকে একজন সহজলভ্য ও কথা শোনার আগ্রহী প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছে। ভোটারদের আরও কাছে পৌঁছাতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের নির্বাচনে তার প্রচারণার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ‘হাতের মুঠোয় এমপি’ নামে একটি সিটিজেন কানেক্টেড অ্যাপের ধারণা। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা ঘরে বসেই তাদের সমস্যা, অভিযোগ, প্রস্তাব কিংবা জরুরি সেবার আবেদন সরাসরি এমপির দপ্তরে জানাতে পারবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রচলিত সংসদীয় রাজনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে অনেকেই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।

তারিকুল ইসলাম সুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমাবে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। নির্বাচিত হলে জনগণের সঙ্গে সরাসরি ও কার্যকর যোগাযোগের একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অ্যাপটি ব্যবহারের অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রতিশ্রুতি তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলছে।

প্রচারণার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সামাজিক পরিসরে তার সক্রিয় উপস্থিতি। নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কুশল বিনিময় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ভূমিকা—সব মিলিয়ে ভোটারদের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। এতে প্রচলিত পোস্টার–ব্যানারনির্ভর রাজনীতির বাইরে গিয়ে প্রচারণায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তারিকুল ইসলাম সুজনের প্রচারণা শুধু একজন প্রার্থীর নির্বাচনী তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভিন্ন ধারার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নাগরিক ইস্যু, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের বার্তা এই আসনের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়