২৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

তিন দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে উচ্ছ্বাসে ভাসল বেইলী স্কুল

তিন দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে উচ্ছ্বাসে ভাসল বেইলী স্কুল

সকাল থেকেই বেইলী স্কুলের প্রাঙ্গণে ছিল এক ভিন্নধর্মী ব্যস্ততা ও উৎসবমুখর পরিবেশ। রঙিন ব্যানার, সজ্জিত ক্যাম্পাস, আলোকসজ্জায় মোড়া মঞ্চ আর শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে বোঝা যাচ্ছিল আজ শুধু নিয়মিত পাঠদান নয়, আজ আনন্দ, উদ্‌যাপন আর সৃজনশীলতার মিলনমেলা।

তিন দিনব্যাপী ‘বেইলী উৎসব ২০২৬’-এর প্রথম দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কেটেছে নবীন বরণ অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর শিশুদের উচ্ছ্বাসে। তিনদিন ব্যাপী আয়োজনে থাকছে নবীনবরণ, চিত্রপ্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বার্ষিক ক্রীড়া উৎসব। 

সকাল সাড়ে ৯টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের তাদের শিক্ষা জীবনের শুরুতে স্বাগত জানাচ্ছি। এই নবীনরাই একদিন তাদের আলোতে সমাজকে আলোকিত করবে। আজ তাদের শিক্ষা জীবনের আনুষ্ঠানিক একাডেমিক যাত্রার সূচনা। শিশুদের মননশীল ও সৃজনশীল বিকাশে শিল্প সংস্কৃতির চর্চা একটি শক্ত ভিত গড়ে দেয়। যা আজকে তাদের শুরুটাই শিল্পচর্চার মাধ্যমে। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক। তিনি শিক্ষার্থীদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা বিকাশে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা চেষ্টা করছি। 

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রভাতী শাখার আয়োজনে স্কুল প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে ছোটদের কোলাহলে। প্রি-নার্সারি থেকে প্রি-ওয়ান শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ছিল এই পর্বের মূল অংশ। নবীন শিক্ষার্থীদের প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের বরণ করেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাসেম জামাল, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

রঙিন পোশাকে সজ্জিত ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মঞ্চে ওঠা, গান ও নৃত্যের তালে তাল মেলানো এবং অভিভাবকদের উচ্ছ্বসিত করতালিতে তৈরি হয় এক আনন্দঘন দৃশ্য। অনেক অভিভাবকই স্মৃতিবন্দি করতে ক্যামেরা ও মোবাইলে ধারণ করেন এই বিশেষ মুহূর্তগুলো।

শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে তাদের র‌্যাম্প শো, যেখানে আধুনিক ও গ্রামীণ পোশাকে ফুটে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্য ও সমকালীন ভাবনা। এরপর শুরু হয় দলীয় নৃত্য পরিবেশনা, যা দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে । 

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল জনপ্রিয় জাদুশিল্পী কবিরের জাদু প্রদর্শনী। একের পর এক অভিনব ও চমকপ্রদ কৌশলে বিস্মিত হয় শিশুরা। দর্শকসারিতে থাকা অভিভাবক ও শিক্ষকরা করতালিতে অভিনন্দন জানান তার পরিবেশনা।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছিলাে শিশুদের জন্য নানা স্টল হাওয়াই মিঠাই, বায়োস্কোপ, পিঠা, হস্তশিল্প প্রদর্শনী এবং শিক্ষার্থীদের আঁকা চিত্র।

দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দিবা শাখার আয়োজনে উৎসবের রং আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণ ফিরে পায় পুরো প্রাঙ্গণ। গান, নৃত্য ও আবৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তুলে ধরে তাদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও মঞ্চদখলের দক্ষতা।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেইলী স্কুলের সভাপতি শিক্ষানুরাগী কাসেম জামাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য একটা সুন্দর মনোরম শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করে আসছি। তাদেরকে আমরা শিক্ষাকেন্দ্র নানা ধরণের সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত রাখি। এবং প্রতিবছর এই ধরনের উৎসব আমরা আয়োজন করে থাকি। যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎসবের প্রথমদিনের পর আগামী দুই দিনে চিত্র প্রদর্শনী, আরও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের মেধা পুরস্কারের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়