তোলারাম কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি তোলারাম কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলামের কাছে আদর্শ ক্যাম্পাস গঠন ও ছাত্র অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংগঠনের কলেজ শাখা সভাপতি শাহ্ মুহাম্মাদ ছগির হোসেনের নেতৃত্বে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা ও দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বর্তমান টিনশেড মসজিদের পরিবর্তে ৫ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ, জোহরের নামাজের সময় ক্লাসে বিরতি প্রদান এবং উন্নত ওজুখানার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এছাড়া আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত ছাত্রবাস ও ছাত্রীবাস সম্প্রসারণ ও আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, কলেজ বাস সার্ভিসের রুট সম্প্রসারণ এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংক্রান্ত দাবির মধ্যে রয়েছে- পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা, ভবনের ছাদে শিক্ষার্থীদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং একটি ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলা।
শিক্ষার্থী কল্যাণে ফরমফিলাপ ও সেশন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনা, লাইব্রেরিতে আধুনিক ও প্রয়োজনীয় বই সরবরাহ এবং প্রতিটি ভবনে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপনের দাবিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যহীন আচরণ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে সংগঠনের সভাপতি শাহ্ মুহাম্মাদ ছগির হোসেন বলেন, “এই যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি তোলারাম কলেজ একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে এবং দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।”
অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম স্মারকলিপিটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন এবং কলেজের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





































