প্রচারণার প্রথমদিনে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী আমেজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথমদিনেই নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী পরিবেশ জমে ওঠেছে। দীর্ঘদিন পর ভোটের মাঠে নেমে আসায় প্রার্থী, নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই সদর, বন্দর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
প্রচারণার শুরুতেই অনেক প্রার্থী জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন। কেউ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, কেউ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন। পরে প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশা শোনেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তিনি। পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। দুপুরে তিনি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে আরেকটি প্রচারণায় অংশ নেন।
দশ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া শেষে তিনি গণসংযোগে নামেন এবং ভোটারদের কাছে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন বন্দর থানাধীন ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটবল প্রতীকে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি জুলাই শহীদদের স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করার মধ্য দিয়ে মাঠে নামেন এবং এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সমস্যা ও প্রত্যাশা শোনেন।
গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী তারিকুল ইসলাম নবীগঞ্জের পবিত্র কদম রসূল দরগাহ জিয়ারত এবং গণঅভ্যুত্থানে শহীদ স্বজনের কবর জিয়ারত করে দোয়া দেন। এরপর তিনি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ করেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ প্রথমদিনেই বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের দশ দলীয় জোট প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন সকালে হাজীগঞ্জে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে দোয়া করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন এবং পরে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম এবং বিএনপি জোট প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী ও তাদের সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান।
নারায়ণগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনেও বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করেন।
দীর্ঘদিন পর সরাসরি ভোটের মাঠে প্রার্থীদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বাড়িয়েছে। অনেক ভোটার প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এলাকার সমস্যা, প্রত্যাশা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রার্থীরাও এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ওয়ার্ড এলাকায় প্রার্থীদের ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী পরিবেশ চোখে পড়ার মতোভাবে জমে উঠেছে।





































