লক্ষ্মীনারায়ণ মিলে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি রাব্বির
সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে অবস্থিত লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলে ৫৩টি শেয়ারহোল্ডার পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল কলোনিতে সাম্প্রতিক হামলায় আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আহত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
আহত পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় গত ২১ জুলাই ৫৩ জন শেয়ারহোল্ডার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ দেওয়ার পর ওই রাতেই মিল কলোনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ কয়েকজন আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ২০০১ সালে সরকার মিলটির ৫১০ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে শেয়ারহোল্ডার করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত মিলটি লাভজনকভাবে পরিচালিত হলেও পরে নীট কনসার্ন গ্রুপের জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে অধিকাংশ শেয়ার কিনে নেন। যারা শেয়ার বিক্রি করতে রাজি হননি, তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, আন্দোলন করায় বিভিন্ন সময়ে হামলা, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং মিলের পুরোনো মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৫ সালে হাইকোর্টের এক আদেশে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলের চেয়ারম্যান হিসেবে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়।
রফিউর রাব্বি বলেন, লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলের ঘটনাটি "রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা"। তার অভিযোগ, মিলটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একটি ভূমিদস্যু চক্র দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ভয়ভীতি ও জবরদস্তির মাধ্যমে অধিকাংশ শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব ৫৩টি পরিবার শেয়ার বিক্রি করেনি, তাদের ওপর বছরের পর বছর হামলা, ভয়ভীতি এবং বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো নির্যাতন চালানো হয়েছে। সর্বশেষ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার দাবিতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরই তাদের ওপর আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রফিউর রাব্বি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে হামলা, দখল ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি কিংবা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা—যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার অতীতের অন্যায়-অবিচারের পুনরাবৃত্তি করবে না এবং লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলের ঘটনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।





































