২৭ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:১৫, ২৬ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২২:১৬, ২৬ জুলাই ২০২৬

ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে ২ ঘণ্টা অবরোধ, ইউএনওর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার

ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে ২ ঘণ্টা অবরোধ, ইউএনওর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে পরে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে ওই এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে দুইজন ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট পর্যন্ত অবরোধ চলায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার এবং মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম।

প্রথমে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বললেও তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। পরে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁর আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে জহিরুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে তারা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধে নেমেছেন।

তিনি দাবি করেন, গত দুই বছরে এ সড়কে ১০ থেকে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবিকে প্রশাসন যৌক্তিক মনে করে। তিনি জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ৩১ আগস্টের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। স্টিল ফ্রেমের ফুটওভার ব্রিজ হওয়ায় এটি দ্রুত নির্মাণ সম্ভব এবং চলতি বছরের মধ্যেই চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত সহায়তা আনারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইউএনও জানান, আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় দুইজন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসন ও সওজের সঙ্গে সমন্বয় করে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়