২৭ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:০৯, ২৬ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৬:১০, ২৬ জুলাই ২০২৬

লিংক রোডে ময়লা ফেলা বন্ধ করে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন করা হবে: ডিসি

লিংক রোডে ময়লা ফেলা বন্ধ করে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন করা হবে: ডিসি

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের দুই পাশে ময়লা ফেলা বন্ধে এবং নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সঙ্গে আলোচনা করে ময়লা-আবর্জনা ফেলার একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মসূচিতে প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ডেঙ্গু ও মশাবাহিত অন্যান্য রোগ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে জেলা প্রশাসন প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের ছয়টি জেলাকে পাইলট হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জও রয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের বসবাসের স্থান, রাস্তাঘাট, খেলাধুলার মাঠ, কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মূল ভিত্তি স্বেচ্ছাশ্রম ও জনসচেতনতা। এ লক্ষ্যে স্কুল, যুবসমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে ভলান্টিয়ার গ্রুপ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মো. রায়হান কবির বলেন, নিজেদের ক্যাম্পাসের পাশাপাশি আশপাশের ব্যবহৃত এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা গেলে একসময় নারায়ণগঞ্জ একটি সুন্দর ও বসবাস-উপযোগী নগরীতে পরিণত হবে।

তিনি জানান, শনিবার জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় বিস্তৃতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। রোববার থেকে জেলার সব সরকারি দপ্তর এবং মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরমধ্যে শুধু সদর উপজেলাতেই ১০০টির বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি চলছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৫০ সদস্যের একটি করে ভলান্টিয়ার টিম গঠন করা হচ্ছে। এসব দল নিজ নিজ ক্যাম্পাসের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাও পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, বাজারগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে আলাদা কমিটি গঠন করা হবে। একইভাবে রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের জন্য পৃথক কমিউনিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মো. রায়হান কবির জানান, প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে সাইনবোর্ড থেকে লিংক রোড পর্যন্ত এলাকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা। এর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ এবং সামনের শিবু মার্কেট পর্যন্ত এলাকা পরিষ্কার করা হবে। পর্যায়ক্রমে সাইনবোর্ড পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে ময়লা-আবর্জনা ফেলার একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হচ্ছে। যাতে শহরে প্রবেশপথ এবং অধিক জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। তারা পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন সব পর্যায়েই সম্পৃক্ত রয়েছেন। সকলকে সঙ্গে নিয়েই একটি পরিচ্ছন্ন ও বসবাস-উপযোগী নগরী গড়ে তুলতে পারি।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলারও নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধে বাস ও লরির মালিক এবং শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তারা আর হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরও কেউ ব্যবহার করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিফাত উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম প্রমুখ।
 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়