১৮ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৪৪, ১৭ জুলাই ২০২৬

সহকর্মীদের শেষ বিদায়, জানাজা শেষে রাজবাড়িতে দাফন ডুবুরি সাদিকের

সহকর্মীদের শেষ বিদায়, জানাজা শেষে রাজবাড়িতে দাফন ডুবুরি সাদিকের

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে দায়িত্ব পালনকালে মারা যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক হোসেনের (শুভ) মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। পরে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নেওয়া হয় তাঁর মরদেহ। সেখানে দাফন করা হয়েছে তাঁকে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মণ্ডলপাড়া ফায়ার স্টেশনে সাদিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিয়ে সহকর্মীরা তাঁকে শেষ বিদায় জানান। পরে দুপুরে ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে আরেক দফা জানাজা শেষে মরদেহ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নেওয়া হয়। বিকেলে সেখানে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

সাদিক হোসেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলীর ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অকালে ছেলেকে হারিয়ে সাদিকের রাষ্ট্রীয় পদক হাতে নিয়ে আহাজারি করছেন মা লিলি বেগম।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ফায়ারঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় নিখোঁজ হন সাদিক। প্রায় আট ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের আরেক ডুবুরি নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন সাদিক। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে গত ১৯ মে তাঁকে প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (সেবা) পদক দেওয়া হয়।

সাদিকের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া রাষ্ট্রীয় পদক হাতে নিয়ে মা লিলি বেগম বলেন, ‘আমার সাদিককে দুই বছর আগে বিয়ে দিয়েছি। বউয়ের নাম সাদিয়া খাতুন। সাদিক আর সাদিয়া মিলেমিশে কত সুন্দর একটি সংসার করছিল। আমার ব্যাটার মতো এমন ব্যাটা পৃথিবীতে আর একটাও নাই। এত ভালো ব্যাটা আমার কীভাবে মরল?’

তিনি বলেন, ‘তিন দিন আগেও আমার ব্যাটার সঙ্গে ফোনে কথা হয়। সাদিক বলেছিল, “মা, আমি আগামী রোববার বাড়ি আসতেছি। মা, আমার কাছে কোনো টাকা নাই। বাড়ি আসব, আব্বাকে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে বোলো।” ওর বাবা পাঁচ হাজার টাকা পাঠায়।’

প্রশিক্ষিত ডুবুরি হওয়ায় পানিতে ডুবে সাদিকের মৃত্যু নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ঘটনার তদন্ত দাবি করেন তাঁর মা।

প্রতিবেশী ও গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক বলেন, ‘সাদিকের মতো ভালো ছেলে এই অঞ্চলে দেখা যায় না। আমরা তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। সাদিক দুই বছর আগে বিয়ে করেছে এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়