কাশীপুরে মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বাংলাবাজারের দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়।
কয়েকশʼনেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে এ মিছিলটি ইউনিয়নের বাংলাবাজার, খিল মার্কেট, চৌধুরীগাঁও হয়ে হাটখোলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এনসিপির কাশীপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার, মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী, জেলা এনসিপির সদস্য সচিব জোবায়ের হোসেন তামজিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম, জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর শাখার আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুল ইসলাম ফাহিম, যুগ্ম সদস্য সচিব মেহেদি হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ, মুমিন আহমেদ ইমু প্রমুখ।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে ছাত্রশক্তির নেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, “আজকের পর থেকে যদি কেউ চাঁদাবাজি করে, আপনারা থানায় অভিযোগ করবেন। যদি তারা অভিযোগ গ্রহণ না করে, আমাদের জানাবেন। আমরা এর দাঁতভাঙা জবাব দেব। প্রশাসন যদি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারে বা অপরাগতা দেখায়, তাহলে যেভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা একটি ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করেছি, সেভাবেই এই কাশীপুর থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করব, ইনশাআল্লাহ।”
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “ফতুল্লার বিভিন্ন জায়গায় মাদক কারবারিরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছে। এবং তারা কাদের সিন্ডিকেটে এই ব্যবসা করছে, সে বিষয়ও আপনারা জানেন। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সেই তালিকা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। আমরা চাই, আপনারা এগিয়ে আসুন। আপনারা পিছিয়ে থাকলে শুধু এমপি ও এনসিপির পক্ষে একটি নিরাপদ কাশীপুর গড়া সম্ভব না। আমরা প্রত্যাশা করি, আপনারা সকলেই আমাদের সঙ্গে এগিয়ে আসবেন।”
এনসিপির নেতা বলেন, “এই কাশীপুরে কোনো মাদকের সিন্ডিকেট ও ব্যবসায়ী থাকতে পারবে না। আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করছি। প্রশাসনের কাছেও তালিকা রয়েছে। সুতরাং আমরা সুযোগ দিচ্ছি। আপনারা ভালো হয়ে যান। তা না হলে এনসিপি যদি চোখ ঘুরিয়ে তাকায়, আপনাদেরকে বিনাশ করে দেবে।”
মাসদাইরে সিজান হত্যার কথা উল্লেখ করে আমিনুল বলেন, “আপনারা মাসদাইরে দেখেছেন। যদি পুলিশ প্রশাসন আপনাকে ধরে, তাহলে আপনি জেলের মাধ্যমে একটি নিরাপদ জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। আর যদি ভালো না হন, তাহলে কাশীপুরবাসী ধরে ফেললে জীবিত ফিরে আসতে পারবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা দিতে পারি না।”
উল্লেখ্য, গত রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “কাশীপুরে ডাকাত শহীদ গ্যাং একটি বড় সমস্যা।”
এ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নেবারও দাবি জানান।





































