বিয়ের মঞ্চ থেকে ‘নতুন সরকারের’ প্রতি হাদি হত্যার বিচারের আহ্বান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিয়ে মানেই আনন্দ, উৎসব ও ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়। তবে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় ছাত্র শক্তির এক নেতার বিয়ের অনুষ্ঠান সেই প্রচলিত ধারণা ভেঙে পরিণত হয় ন্যায়বিচারের দাবির এক ব্যতিক্রমী মঞ্চে। আনন্দঘন আয়োজনের মাঝেই উঠে আসে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের প্রতি একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় ছাত্র শক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ওমর ফারুকের বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমীভাবে উচ্চারিত হয় বহুল আলোচিত ওসমান হাদী হত্যাকা-ের বিচারের দাবি। ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন দাবি উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে একটি প্রশ্ন- হাদী হত্যার বিচার কবে?
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। তার সঙ্গে এনসিপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ নেতাও উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ছাত্র শক্তির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সিয়াম রেজা, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ হক, মুরাদ মাহফিজ, মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম ফাহিম এবং কার্যকরী সদস্য শাহরিয়ার নোমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় ছাত্র শক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সিয়াম রেজা বলেন, “হাদী হত্যার বিচার বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চাওয়া। এটি কেবল একটি পরিবারের দাবি নয়, এটি প্রতিটি সচেতন মানুষের হৃদয়ের দাবি। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিচারের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আশাবাদী, আগামী ১২ তারিখ জনগণ এমন একটি রাজনৈতিক শক্তিকে নির্বাচিত করবে, যারা হাদী ভাইয়ের হত্যার বিচার করতে সক্ষম হবে এবং জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।”
আমন্ত্রিত অতিথিরা জানান, বিয়ের মতো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি তোলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ব্যতিক্রমী নজির। এটি প্রমাণ করে যে তরুণ নেতৃত্ব কেবল রাজপথ বা সভামঞ্চেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনকেও প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
আমন্ত্রিত অতিথি মো. সিফাত বলেন, “এই ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ তরুণ সমাজের রাজনৈতিক সচেতনতার গভীরতা নির্দেশ করে। এটি আবেগনির্ভর হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত শক্তিশালী।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার দৃষ্টি যখন ন্যায়বিচারের দাবির দিকে, তখন বর ওমর ফারুক ও কনে কানিজ মাহবুবা শিফা সরাসরি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বর ওমর ফারুক বলেন, “আজ আমাদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। কিন্তু এই আনন্দের মধ্যেও আমরা ভুলতে পারি না একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা। হাদী হত্যার বিচার না হলে সমাজে ন্যায়বিচারের বার্তা পৌঁছাবে না।”
কনে কানিজ মাহবুবা শিফা বলেন, “একটি নতুন পরিবার গড়ার দিনে আমরা চাই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। হাদী হত্যার বিচার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের প্রতি আমাদের স্পষ্ট দাবি- হাদী হত্যার দ্রুত, সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
উল্লেখ্য, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে। তবে সময় গড়ালেও বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।





































