আনন্দধারার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠন আনন্দধারার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও অভিষেক উপলক্ষে শুক্রবার (৮ আগস্ট) শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকালে চারটি বিভাগে সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে সংগঠনের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহার সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ এবং নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “আমরা আমাদের শিশু-কিশোর ও তরুণদের ক্ষমতা বুঝতে পারি না। চব্বিশের অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন বিদ্রোহ, আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে আমরা এই শক্তি দেখেছি। যারা সৃজনশীলতায় বিশ্বাসী, তারা এ শক্তি উপলব্ধি করতে পারে। সংস্কৃতি সেই শক্তির আধার। সৃজনশীল চর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের মানুষ গড়ে তুলতে হবে। এ চর্চা না থাকলে দেশে কেবল শামীম ওসমানরাই তৈরি হবে, মানুষ হবে না। দেশটা শামীম ওসমানদের নয়, মানুষের—এ বিশ্বাস ও ভরসা আমাদের রাখতে হবে।”
রফিউর রাব্বি বলেন, “সংস্কৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। পরিবর্তন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। সভ্যতার ইতিহাস এই পরিবর্তনেরই ইতিহাস—মানুষের ইতিহাস। সংস্কৃতি মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। মানুষের দায় মানুষের প্রতি, প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি। মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়াবে। মানুষ সমস্ত সৃষ্টিকে নিয়েই বাঁচে, মানুষ একা বাঁচতে পারে না। মানুষের দায় হচ্ছে সমাজ ও পৃথিবীকে মানুষের বাস-উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত থাকা।”
অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন ভবানী শংকর রায় ও ফাহমিদা আজাদ। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।