ফতুল্লায় ‘কথিত’ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অস্ত্র দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকার ‘কথিত’ যুবদল নেতা রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মো. জুলহাস (৪২) নামে এক সিএনজিচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুবেল দাবি করেছেন, দুই সিএনজিচালকের মধ্যে মারামারির ঘটনা তিনি মীমাংসা করে দিয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিবু মার্কেট এলাকার রানী মা প্লাজার নিচতলায় রুবেল হোসেনের অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন জুলহাস।
এ ঘটনায় জুলহাস বাদী হয়ে রুবেল হোসেন, জাহাঙ্গীর, সুমন, মাসুদ ওরফে টুন্ডা মাসুদ ও শান্তসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে জুলহাস জানান, তিনি পরিবার নিয়ে সস্তাপুর এলাকায় আনোয়ারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন এবং পেশায় সিএনজিচালক। পাঁচ-ছয় মাস আগে পূর্বপরিচিত অপর সিএনজিচালক জাহাঙ্গীরকে ১০ হাজার টাকা ধার দেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দিয়ে জাহাঙ্গীর কালক্ষেপণ করতে থাকেন বলে তার অভিযোগ।
জুলহাসের ভাষ্য, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে শিবু মার্কেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দেখা হলে তিনি পাওনা টাকা ফেরত চান। এ সময় জাহাঙ্গীর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে চড়-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি এলাকায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেন।
অভিযোগে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় কয়েকজন জুলহাসের ভাড়া বাসায় যান। তাদের মধ্যে শান্ত ও টুন্ডা মাসুদ তাকে জানান, জাহাঙ্গীর পাওনা টাকা ফেরত দেবেন। তাদের সঙ্গে যেতে না চাইলে তাকে জোর করে শিবু মার্কেটের রানী মা প্লাজার নিচতলায় রুবেল হোসেনের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ জুলহাসের।
সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, একপর্যায়ে রুবেল হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পুনরায় পাওনা টাকা চাইলে গুলি করে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেন। পরে মারধরের পাশাপাশি গলা চেপে শ্বাসরোধে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
জুলহাস জানান, আর পাওনা টাকা দাবি করবেন না বলার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুই সিএনজিচালক মারামারি করছিল। পরবর্তীতে আমার এক কর্মী ড্রাইভারকে চাবি দিয়ে মাথায় আঘাত করছে। পরে ওরে আবার কয়েকটা থাপড়-টাপড় দিয়ে ওই চালকের সঙ্গে মিল করে দিছে।’
রুবেলের দাবি, পরে কেউ তাদের উসকানি দিয়ে থানায় অভিযোগ করতে পাঠিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে তারা হয়তো ভালো কিছু মনে করে অভিযোগটি থানায়ও জমা দেয় নাই। পরে আমার কাছে আসছিল। আমি এটা সমাধান করে দিছি।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’





































