১৯ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৫২, ১৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২২:১২, ১৯ মার্চ ২০২৬

‘সালামির টাকা মায়ের কাছে গেলে আর পাওয়া যেত না’

‘সালামির টাকা মায়ের কাছে গেলে আর পাওয়া যেত না’

নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আফজাল হোসেন পন্টি ঈদের স্মৃতিচারণ করে হাস্যরসের সঙ্গে বলেছেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ঋণ খেলাপী হচ্ছে মায়েরা। কারণ সবার ছোটবেলাতেই সালামির টাকা মায়ের কাছে জমা রেখেছে। সারাবছর এটা হিসাব করতাম কিন্তু ওই টাকা আর পাওয়া যেত না। বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করার আছে কিনা আমি জানি না। কিন্তু এই ঋণ খেলাপীদের একটু সচেতন হওয়া উচিত। বাচ্চাদের জমানো, সালামির টাকাটা যেন তারা সময় মতো দিয়ে দেন।”

প্রেস নারায়ণগঞ্জের বিশেষ আয়োজন ‘ঈদ আড্ডায়’ তিনি এসব কথা বলেন।

শৈশবের ঈদ স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “জুতো নিয়ে খুব ফ্যাসিনেশন ছিল। ঈদের নতুন জুতোটা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। বছরে একবারই ঢাকা যাওয়া হতো শপিং করার জন্য। এলিফ্যান্ট রোডের জাহানারা প্লাজা সামনে যখন নামতাম মনে হতো, হ্যাঁ ঈদ বোধ হয় পূর্ণতা পেল। জুতো কিনে আনার পর উত্তেজনায় রাতে ঘুম আসতো না। তর সইতো না, কখন ঈদ আসবে আর জুতো পড়বো। কিন্তু এখনকার বাচ্চাদের ভিতরে বিশেষ করে আমার সন্তানদেরও দেখি, ওদের এগুলো নিয়ে খুব বেশি মাথা ব্যথা নেই। ওরা ঈদের আগেও ঈদের জামা পড়ে ফেলে। এত বেশি পায় যে ওই আকর্ষণ, পাওয়ার আকাক্সক্ষা বোধ হয় কমে গেছে। তারা হয়তো তাদের মতন করে আনন্দ করে।”

তিনি আরও বলেন, “ঈদের সালামির আনন্দ এখনো কিছুটা আছে। কিন্তু ওই সময় এক ধরনের প্রতিযোগিতা হতো, কে কত বেশি সালামি পেলাম। পাড়া মহল্লায় লাইটিং হতো, সন্ধ্যার সময় গান বাজনা, ডেক সেট। এখন তো সাউন্ড সিস্টেম চলে, তখন আমরা ডেক-সেট বলতাম, ক্যাসেটে গান বাজানো হতো। ওইটাও একটা আনন্দের বিষয় ছিল। এখন এই ছোট ছোট জিনিসগুলো বাচ্চারা হয়তো ওইভাবে আর মজাটা পায় না। ঈদে যে ফেস্টিভাল ভাইব আমাদের সময় ছিল। আমরা ওই জায়গাগুলোতে আনন্দ পেতাম। এখন হয়তো ঈদের দিন কোথাও বেড়াতে যায় না আসলে যাওয়ার জায়গাও তো নাই। নারায়ণগঞ্জ বা ঢাকায়ও তো ঈদের দিন আসলে মানুষের ফাঁকা রাস্তায় হাঁটা ছাড়া।”

আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, “ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গেলে মনে হয়, খুব বুড়ো হয়ে গেছি। ৮০’র দশকের জেনারেশন আমরা মনে হয় এনালগ এবং ডিজিটালের ট্রানিজশনটা সবচেয়ে বেশি দেখেছি। আমরা যেমন ঘুড়ি উড়িয়েছি, তেমন ফেসবুকও চালাচ্ছি। ডিজিটালাইজেশনের বিষয়টা আমরা সবচেয়ে বেশি ফেস করেছি এবং আমাদের এডাপ্ট করতে হয়েছে। আমার মনে হয়, এবার ঈদে নারায়ণগঞ্জে হকারমুক্ত, অটোমুক্ত সড়ক এবং ফুটপাতে মানুষজন আনন্দ করতে পারে। এটা একটা নতুন অনুষঙ্গ হতে পারে নারায়ণগঞ্জবাসীর, ঈদে ফাঁকা বিবি রোড। এটা এবার মানুষের ঈদে একটা বাড়তি আনন্দ যোগ করবে।”

তিনি আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জে খুব অল্প সংখ্যক পুকুর আছে। যেটার ভিতরে আমাদের উত্তর চাষাঢ়ায় দুটো পুকুর এখনো বর্তমান একেবারে আগের অবস্থাতেই আছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পানি। এই পুকুরে আমি নিজে সাতার শিখেছি। চাঁদ রাতে মিছিল করতো, এই মিছিল শেষে সবাই লাফালাফি করে ওই রামবাবুর পুকুরে আমরা গোসল করতাম। এখন তা কোনো বাচ্চার মধ্যেই দেখি না। এবং এটার কারণ আমার মনে হয় মোবাইল। সবাই অনেক বেশি ঘরকুনো হয়ে গেছে।”

সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “সবার জন্য ঈদ মঙ্গলময় হোক, সুন্দর হোক। সবার সুন্দর কাটুক ঈদের দিনটি। ঈদ মোবারক।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়