২০ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:১০, ১৯ মার্চ ২০২৬

ঈদ কারো জীবনে আসে খুব বেদনাদায়কভাবেও: রফিউর রাব্বি

ঈদ কারো জীবনে আসে খুব বেদনাদায়কভাবেও: রফিউর রাব্বি

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেছেন, “১৯৭১ সালের ঈদটা অনেক মনে পড়ে। আমরা ওই ঈদটা করতেই পারি নাই। যখন চাঁদ দেখা যায়, সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে একটি গান বাজানো হয়েছিল, ‘ও চাঁদ তুমি ফিরে যাও’। ওই ঈদে আমরা নতুন জামা-কাপড় পরতে, কিনতেও পারিনি। দোকান-পাট সমস্ত কিছু বন্ধ, সবার মধ্যে আতঙ্ক। ওই ঈদটা মনে খুব দাগ কাটে, এই একটা মাত্র ঈদ যেখানে আমরা আতঙ্কে উদযাপন করেছি। কোন আনন্দ নেই, কোন বিশেষ আয়োজন নেই।”

প্রেস নারায়ণগঞ্জের ‘বিশেষ আয়োজন’ ঈদ আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন।

রফিউর রাব্বি বলেন, “ঈদ কারো কারো জীবনে আসে খুব বেদনাদায়কভাবেও। উত্তরবঙ্গের নীলফামারিতে এক বৃদ্ধ, সে তার সাক্ষাৎকারে বলছে, ঈদ এলে সে ডিম ভাজা দিয়ে ভাত খেতে পারে। আমরা ঈদ আয়োজন যেভাবে করি...অথচ আমাদেরই দেশে কিছু মানুষ ঈদ কীভাবে পালন করছে। এই জন্যই আমাদের ইসলাম ধর্মেও বলা আছে, সকলকে নিয়ে আয়োজন এবং শুধু নিজের প্রয়োজনটা দেখা না। আসলে ধর্মের এই বিষয়গুলো এতোটা প্রাতিষ্ঠানিক যে, মূল যেই জায়গাটা সেটাকে গ্রহণ করি না। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়গুলোকে এমনভাবে গ্রহণ করি, মানুষকে আমাদের জীবনে যুক্ত করা তো পরের কথা, মানুষের মধ্যে বিভাজন, দূরত্ব তৈরি করে। আমাদের ধর্মের এই চরিত্রটা আজকে খুব বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। আমাদের ধর্মের মূল সুর সবাইকে নিয়ে একত্রে।”

স্কুলজীবনের এক ঈদের দিনের স্মৃতিচারণ করে রফিউর রাব্বি বলেন, “৬৯ অথবা ৭০ সালে গুলশান সিনেমা হল ঈদের দিন চালু হয়। ওই সময় ছাত্রদের জন্য হাফ টিকেটের ব্যবস্থা ছিল। প্রথমদিন ‘শহীদ তিতুমীর বাসের কেল্লা’ সিনেমাটা দিয়ে শুরু করেছিল। আমি আর আমার ভাই, দুইজনে ঈদের দিন ১২টার শো’য়ে সিনেমাটা দেখেছিলাম। ঈদ আয়োজনে এখন নতুন বিভিন্ন বিষয় যুক্ত হয়েছে। সেই সময় এত টেলিভিশনের ব্যাপার স্যাপার ছিল না। টেলিভিশনের ব্যাপারটা যুক্ত হয়েছে স্বাধীনতার পর। এখন ঈদের বিশেষ আয়োজনের সাথে টেলিভিশনটাও যুক্ত হয়েছে। আবার ঈদে বিভিন্ন জন, পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে, কেউ কেউ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। এই বিষয়গুলো যুক্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সংগত কারণেই আমাদের অর্থনীতির পরিবর্তনের সাথে আমাদের চিন্তা, এ বিষয়গুলোর পরিবর্তন হচ্ছে। আসলে অর্থনীতি হচ্ছে আমাদের সবকিছুরই ভিত্তি, শিল্প-সংস্কৃতি যাই বলি না কেন। কাল মার্কস বলেছিলেন, যে এটা হচ্ছে অবকাঠামো। আর আমাদের চিন্তাভাবনা, শিল্প-সাহিত্যসহ সবটাই হচ্ছে উপরিকাঠামো। এই ভূখন্ডে, গ্রহে এবং সব ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষকে নিয়ে, এই বৈচিত্র নিয়ে এই বসবাস করা আমরা ক্রমাগত যেন এ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছি।”

“আজকে ঈদ সামনে সবাইকে যেমনি ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, পাশাপাশি আমাদের মূল ধর্মের যে সুর, ‘সবাইকে নিয়ে’। আমরা যাতে সেই দিকেও তাকাই”, যোগ করেন তিনি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়