এবারও ঈদ জেলে কাটবে আইভীর
মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগির প্রত্যাশা থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিনবারের নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর এবারের ঈদ কাটছে কারাগারে।
গত বছরের ঈদুল আজহার মতো এবারও ঈদুল ফিতর তাকে কাটাতে হচ্ছে জেলের চার দেয়ালের ভেতর। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কর্পোরেশনের দায়িত্ব হারানোর পাশাপাশি একাধিক মামলায় গত প্রায় ১১ মাস ধরে কারাবন্দি রয়েছেন তিনি। জীবনে এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর কাটছে কারাগারে থাকা এই নারী মেয়রের।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতন ঘটে দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের। পরে গঠিত হয় নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময় সারাদেশের সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে দায়িত্ব হারান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও।
সরকার পতনের পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতা আত্মগোপনে গেলেও আইভী অবস্থান করছিলেন নিজ বাসভবনেই। তার দাবি ছিল, তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
তবে গত বছরের ৮ মে রাতে শহরের দেওভোগে তার বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ অভিযান চালায় পুলিশ। জুলাই আন্দোলনে এক পোশাক শ্রমিক হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। রাতভর উত্তেজনার পর সকালে আইভী নিজেই পুলিশের গাড়িতে ওঠেন।
মেয়র পদ থেকে অপসারণের প্রায় এক মাস পর তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি মামলায় তাকে আসামি করা হয় এবং প্রতিটিতেই তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। একাধিক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরও নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সর্বশেষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আরও পাঁচ মামলায় জামিন পাওয়ার পর একই দিনে নতুন একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ, যা আদালত মঞ্জুর করে।
১৯৬৬ সালের ৫ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে জন্মগ্রহণ করেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার বাবা আলী আহাম্মদ চুনকা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা। শৈশব থেকেই রাজনীতির পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তিনি।
শিক্ষাজীবনে দেওভোগ আখড়া বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুল ও মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ১৯৯২ সালে রাশিয়ার ওডেসা পিরাগোভ মেডিকেল ইনস্টিটিউট থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রথম নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। পরে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ ও ২০২২ সালেও পুনর্নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেকে দুর্নীতির অভিযোগের বাইরে রাখতে সক্ষম হন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সাময়িকী ‘দি এশিয়ান’ তাকে এশিয়ার প্রভাবশালী নারী মেয়রদের তালিকায় স্থান দেয়। এছাড়া বাংলা একাডেমি থেকে সমাজসেবায় সম্মানসূচক ফেলোশিপও লাভ করেন তিনি।
এদিকে, তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা। তাদের দাবি, আইভীকে জামিন পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে।





































